দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার জেরে শেষ পর্যন্ত কড়া শাস্তির মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র পরিচিত মুখ রিজু দত্ত। শুক্রবার গভীর রাতে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে জারি করা সাসপেনশন অর্ডারে জানানো হয়েছে, আগামী ছয় বছরের জন্য তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। এই সময়কালে তিনি দলের কোনও পদ, সাংগঠনিক দায়িত্ব বা রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র, প্রতিনিধি বা অনুমোদিত সদস্য হিসেবেও পরিচয় দিতে পারবেন না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋজু দত্তের সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছে কোহিনূর মজুমদার ও কার্তিক ঘোষকে। (TMC Suspended Riju Dutta)
সাসপেনশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৮ মে রিজু দত্তকে একটি শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। দলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য সরাসরি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সামিল।
তৃণমূলের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোকজের কোনও লিখিত জবাব দেননি রিজু দত্ত। যদিও পরে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই অনুযায়ী ৮ মে বিকেল ৩টেয় তৃণমূল ভবনে তাঁকে উপস্থিত থাকার সময় দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কমিটির সদস্যরা তাঁর দেখা পাননি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। (TMC Suspended Riju Dutta)
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রিজু দত্ত দাবি করেছিলেন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বিশেষ করে বিজেপি নেতৃত্বকে আক্রমণ করার জন্য তাঁকে নাকি দলীয়ভাবে চাপ দেওয়া হতো। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেওয়ার সময় কী বলতে হবে, তা নিয়েও নির্দেশ দেওয়া হতো। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। বিজেপি শিবির সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করতে শুরু করে।
শাসক দলের অন্দরে অবশ্য শুরু থেকেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছিল। দলীয় সূত্রের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সংগঠনের ভিতরে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তাই দ্রুত শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক ডাকা হয় এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (TMC Suspended Riju Dutta)
মহাভারতের উদাহরণ টেনে তৃণমূলকে খোঁচা, দল হারতে বেসুরো রত্না দে নাগ












