পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার গৃহস্থের হেঁশেলেও। এবার জ্বালানি সংকটের আঁচ তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্য বিশেষ করে চিনির অভ্যন্তরীণ যোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি রুখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Sugar Export Ban)। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের চিনি রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ভারত। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ সালে বিশ্ব চিনির বাজারে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩.৪ শতাংশ। ২০২১-২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ শতাংশে। পরবর্তীকালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে সেই হার। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই এবার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র।
এর আগে গত মাসে ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া মরসুমে ভারতের মোট চিনি উৎপাদন হতে পারে ৩২ মিলিয়ন টন। এর আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল ৩২.৪ মিলিয়ন টন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে মুদ্রাস্ফিতির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলতে থাকা শুল্ক কোটার আওতায় চিনির রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
সরকারি সূত্রে খবর, কাঁচা, সাদা এবং পরিশোধিত সব ধরনের চিনির রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি চালু থাকলে দেশে চিনির ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং দাম আরও বাড়তে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই আগেভাগেই সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।












