রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতন চিন্তায় রাখছে মানুষকে

Indian stock market crash
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
ভারতীয় শেয়ার বাজারে বলতে গেলে এক মাস ধরে বেশ টালমাটাল অবস্থা (Indian Stock Market Crash)। শেয়ারের দরের ওঠা নামা কিন্তু এই বাজারের চিরন্তন ধর্ম। কারণ বাজারে যারা কাজ করেন তাঁরা জানেন শেয়ারের দাম না পড়লে তা ওঠে না। আর শেয়ার বাজারে ওঠা পড়া আছে বলেই না মিউচুয়াল ফান্ডের বিজ্ঞাপনে একথা লিখতে হয়, সব ঠিকঠাক জেনে এই শেয়ার বাজারে লগ্নি করুন।

ভারতের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তর বা সরকার বাহদুরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, এই যে শেয়ার বাজারের দামের অনিশ্চয়তা তার কারণ বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়া, বিদেশী বাজারে সুদের পরিবর্তন বা ভারতীয় মুদ্রার ডলারের তুলনায় পতন। এগুলোর প্রভাবে যে ভারতীয় শেয়ার বাজার কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা হয়তো বলা যেতে পারে। কিন্তু এছাড়াও যে আরও কারণ আছে এই পতনের, তাও বলা হয়ত জরুরী।

আরও পড়ুন: বিদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ার বেচতেই ধস, বাজার থেকে এক ধাক্কায় উধাও ₹৯ লক্ষ কোটি

শেয়ার বাজারের তত্ত্ব বলে, ভালো শেয়ার বাজার নির্ভর করে কোম্পানিদের শক্তিশালী অর্থনৈতিক গঠন, কর্পোরেটদের সুন্দর পরিচালনা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আর বড় বড় অর্থনৈতিক সংস্থার শেয়ার বাজারে লেনদেন। তাকিয়ে দেখুন ভারতের এই মুহূর্তে কর্পোরেটদের অবস্থা। টাটার মতো এমন অসাধারণ কোম্পানির অন্দরমহলে যে অশুভ প্রতিযোগিতা চলেছে, তাতে আশাকরি যারা শেয়ার বাজারে লগ্নি করেন তাদের কাছে ভালো বার্তা বহন করে আনেনি। (Indian Stock Market Crash)

শুধু টাটা সন্স কেন, তাকিয়ে দেখুন আদানি গ্রুপের অবস্থা। তারা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে টাকা পয়সার লেনদেনে ত্রুটির কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবিকে ১.৫ কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। এটা বোঝা গেছে এই কোম্পানির লেনেদেনে কোনও মুশকিল ছিল। তাকিয়ে দেখুন রাজেশ এক্সপোর্টের অবস্থা। তারা জড়িয়ে পড়ছে ১৫.১৫ লাখ কোটি টাকা হিসাবের গরমিলে। “স্পেস এক্স” এর মতো কোম্পানি ১৩৫ ডলারের নতুন শেয়ার, বাজারে আনতে গিয়েই জড়িয়ে পড়ছে নানা প্রশ্ন তোলার মতো ঘটনায়। এত হইচই করে বাজারে আসা পেটিএম কোম্পানি নিয়ম নীতি না মেনে চলার জন্য মুশকিলে পড়েছে। মনে রাখতে হবে এই কোম্পানির যারা শেয়ার কিনে বসে আছেন তারা তো মুশকিলে পড়েছেন, তার সঙ্গে কোটি কোটি শেয়ার বাজারে লগ্নিকারী মানুষ বাজারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন ও পড়ছেন বড় ধরনের বিপদে।

লক্ষ করে দেখুন, বিগত কয়েক মাসে একের পর এক নতুন সংস্থা শেয়ার বাজারে এসেছে। সব মিলিয়ে এই নতুন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৭০০০ কোটি টাকা। অতএব বুঝতেই পারছেন সেকেন্ডারি মার্কেট বা আগেই যে শেয়ারগুলো বাজারে নথিভুক্ত ছিল তাদের চাহিদায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর পরে তো আছে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় শেয়ারের লগ্নি থেকে হাত গুটিয়ে নেওয়া। বিদেশী বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো ভারতীয় শেয়ার মার্কেটের উপর ভরসা রাখতে না পেরে ১.১২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ বিগত ৬ মাসে সরিয়ে নিয়েছে। (Indian Stock Market Crash)

আরও পড়ুন: জমা সব টাকা তুলে নিয়েছেন? এবার আপনার PF অ্যাকাউন্টের কী হবে?

সরকারের অর্থনীতিক নীতি নির্ধারণের উপর শেয়ার বাজারের গতি প্রকৃতি অনেকভাবে প্রভাবিত হয়। এই মুহূর্তে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায়, সমগ্র শিল্পের উপরই চাহিদা সঙ্কোচনের চাপ আসছে। তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নানা শিল্প। তার ফল পড়ছে ওই শিল্পগুলোর কোম্পানিদের লাভের উপর। অতএব মানুষের আস্থা কমছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের উপর। এটা বোঝাই যাচ্ছে যে ভারতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নতি না হলে শেয়ার বাজারের ধারবাহিক উন্নতি হওয়া মুশকিল। আর সামনে তো বড় ধরনের নির্বাচনও নেই যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এগিয়ে এসে জনগণকে শেয়ার কিনতে বলবে উজ্জ্বল শেয়ার বাজারের কথা ভেবে, যেমন বলেছিল ২০২৪ সালে। (Indian Stock Market Crash)


Hindusthan News Point

রাজ্য, দেশ, বিদেশ, খেলা ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য খবর এক প্ল্যাটফর্মে। আমরা তুলে ধরি সত্য, বাস্তব ও মানুষের কথা। Voice of the Nation

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now