লেকটাউনে লিওনেল মেসি ও দিয়েগো মারাদোনার মূর্তি বসানো নিয়ে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। ফুটবলের এই দুই মহাতারকার মূর্তি বসানো নিয়ে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। (Lionel Messi Kolkata)
সেই মামলায় সোমবার দমদম পুরসভা এবং রাজ্যকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ আদালতের।
আবেদনকারীর দাবি, মূর্তি দুটি বসানো হয়েছে সরকারি জমিতে। তাছাড়া সরকারি জমিতে এই মূর্তিগুলি থাকায় মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, মানুষের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে সরকারি জমিতে কোন মূর্তি বা স্থাপত্য শিল্প করা যাবে না।
মামলাকারী স্বদেশ মজুমদারের বক্তব্য, সরকারি জায়গায় মূর্তি বসানোর ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকার সত্ত্বেও রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু দক্ষিণ দমদম পুরসভার লেকটাউন এলাকায় আর্জেন্তিনার দুই বিশ্ববন্দিত ফুটবলার মারাদোনা ও লিওনেল মেসির মূর্তি বসিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিধাননগরের মেয়র শ্রীমতী কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সম্মতিতে সল্টলেকে চিতোরের রানা প্রতাপের মূর্তি বসিয়েছেন।
অন্যদিকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অবশেষে জামিন পেলেন মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। জানা গিয়েছে, ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে বিধাননগর মহকুমা আদালত। এর আগে দু’দফায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৮ দিন বন্দি থাকার পর আদালতের নির্দেশে ছাড়া পাচ্ছেন শতদ্রু।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ ডিসেম্বর, সেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহাতারকা লিওনেল মেসির ‘ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর কলকাতার অনুষ্ঠান ছিল। যার আয়োজক ছিলেন শতদ্রু দত্ত। অনুষ্ঠান শুরুর পর স্টেডিয়ামে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হয়। প্রচুর ভিড় লিওনেল মেসিকে ঘিরে থাকায়, দর্শকরা প্রিয় মহাতারকাকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। আর তার জেরে দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ক্ষিপ্ত জনতা মাঠে জলের বোতল ও চেয়ার ছুঁড়তে শুরু করেন। মামলায় অশান্তি সৃষ্টি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে রাজ্য পুলিশের চার শীর্ষ আধিকারিককে নিয়ে চার সদস্যের সিট ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে সিটের আধিকারিকরা শতদ্রু দত্তের রিষড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় বিভিন্ন নথি উদ্ধার করেন সিটের আধিকারিকরা। পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিট।
তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার দিনের অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির টাকা যে অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল, সেটি ফ্রিজ করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টে টিকিট বিক্রির প্রায় ২২ কোটি টাকা জমা পড়েছিল।











