বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই আবেগ, শিল্পকলা, ঐতিহ্য আর উৎসবের মেলবন্ধন। প্রতি বছর হাজার হাজার পুজো মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা হয় তিলোত্তমায়। তবে এবার কলকাতার পুজোর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে জেলার পুজো। কোথাও সাবেকি পুজোর ঐতিহ্য, কোথাও আবার অভিনব থিম ও নজরকাড়া শিল্পকর্ম সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো যেন বিভিন্ন জেলায় এক বিশাল মুক্তাঙ্গন হয়ে ওঠে (durga puja 2026)।
durga puja 2026: হাওড়া
এবার জেলের ভিতরেই পূজিতা হবেন দেবী দুর্গা। কি ভাবছেন? হাওড়ার বাগনানের হিজলক উত্তরপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এবারে থিম বিহারের মুজফফরপুর জেলের আদলে তৈরি মণ্ডপ। আর সেখানেই মন্ডপের সঙ্গে সাজুয্য রেখে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। কেন এই ধরনের থিম? পুজো উদ্যোগতাদের বক্তব্য, এবারে পুজোয় বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে এবং জেলে থাকাকালীন তার ভাবনাচিন্তা ও মৃত্যুরকালীন তার জবানবন্দি নিয়ে থিম তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মণ্ডপকে দূর থেকে দেখলে মনেই হবে না এটা পুজো মন্ডপ। আলো আধারির খেলায় জেলের ছবি ফুটে উঠেছে (durga puja 2026)।
দক্ষিণ ২৪ পরগণা
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর ফুলতলা দুর্গোৎসব পুজো কমিটির এবারের থিম ‘সুতোয় বোনা স্বপ্ন’। ৭৬ তম বর্ষে পদার্পণ করল এই পুজো। থিমের মাধ্যমে সুতোর কারুকার্য ও বাংলার হস্তশিল্পকে তুলে ধরাই এই পুজো কমিটির মূল লক্ষ্য। মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন দুপুরে বারুইপুরের ফুলতলা দুর্গোৎসব প্রাঙ্গণে পৌঁছন তিনি। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন পুজো কমিটির সদস্যরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি এবারের জেলার পুজোতে থাকছি সব জায়গায়। গতকাল উত্তর ২৪ পরগণা, আজকে দক্ষিণ ২৪ পরগণা হয়েছে। বারুইপুর থেকে আরম্ভ করে সোনারপুর, গড়িয়া, বকরা হাট থেকে আরম্ভ করে বজবজ, বাটা সব জায়গায় যাব। অনেক বছর পরে ফুলতলার পুজোতে এলাম। খুব উৎসাহের সঙ্গে সুন্দর মূর্তি এবং মণ্ডপ তৈরি হয়েছে।”
জলপাইগুড়ি
কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আদলে তৈরি হচ্ছে আসাম মোড় তারাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ, এবার ৬০তম বর্ষ পদার্পণ করল এই পুজো। জলপাইগুড়ি জেলার আসাম মোড় তারাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবছর তাদের ৬০তম বর্ষে এক অভিনব ভাবনাকে সামনে রেখে মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছে। এবার তাদের পুজোর মূল আকর্ষণ হলো কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। জলপাইগুড়ির ঐতিহ্য ও গর্বের অন্যতম নিদর্শন সার্কিট বেঞ্চকে মণ্ডপের আদলে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
রং, কাঠসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ চলছে জোরকদমে। জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়ির শিল্পীরা একত্রিত হয়ে নিখুঁতভাবে সার্কিট বেঞ্চের আদল ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। শহরের ঐতিহ্যকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আসানসোল
সোমবার আসানসোলে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির হাতে পুজোর অনুদানের চেক তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বানপুর ভারতী ভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হিরাপুর থানার অন্তর্গত বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেবা সংকল্প যাত্রার উদ্যোগে আয়োজিত অঙ্কন প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পন্নমবালম। আসানসোল পুরনিগমের কমিশনার দিলীপ মিশ্র-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।











