ধূপগুড়ির রায়পাড়ায় শনিবার সকালে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হাড়হিম খুনের ঘটনা। ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীকান্ত রায়ের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম সোমা রায় (বর্মন), বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে শ্রীকান্ত রায়ের সঙ্গে সোমার বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে—একজনের বয়স ১৩, অন্যজনের ৭ বছর। কাজের সূত্রে শ্রীকান্ত ভিনরাজ্যে থাকাকালীন পাশের বাড়ির যুবক চিরঞ্জিত রায়ের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সোমা। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের সালিশি সভায় গড়ায়। সেখানেই, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, শ্রীকান্ত নিজে দাঁড়িয়ে থেকে স্ত্রীর সঙ্গে চিরঞ্জিতের বিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে সোমা চিরঞ্জিতের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন।
কিন্তু শনিবার সকালে আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে চিরঞ্জিতের বাড়িতে ঢুকে সোমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন শ্রীকান্ত। সেই সময় চিরঞ্জিত বাড়িতে ছিলেন না। সোমার চিৎকার শুনে চিরঞ্জিতের মা বাধা দিতে এলে তাকেও মারার জন্য তেড়ে যান অভিযুক্ত। গুরুতর জখম অবস্থায় সোমা ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খুনের পর রক্তমাখা অবস্থায় প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে, পরে টোটোয় চেপে ধূপগুড়ি থানায় পৌঁছে আত্মসমর্পণ করেন শ্রীকান্ত। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।











