রবিবার ভরসন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক সংলগ্ন পঞ্চাননতলা ও কাঁকুলিয়া রোড এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, গুলি, বোমা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে গুলিবিদ্ধ একজন, আহত হন আরও কয়েকজন। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ মুখে রুমাল বাঁধা দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় ও বোমাবাজি শুরু করে। রাস্তা জুড়ে পড়ে থাকে রক্তের দাগ, আধলা ইট, বোমার সুতলি ও কাচের টুকরো। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। একটি পুলিশ ভ্যানের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। থানার অবস্থান এক কিলোমিটারেরও কম দূরে হলেও দীর্ঘ সময় ধরে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এই ঘটনার পিছনে কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলবল জড়িত বলে স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এলাকায় দখল কায়েম করতেই এই হামলা। এর আগেও গণেশ পুজোর সময় একই ধরনের তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, একটি পিকনিককে কেন্দ্র করেই এই অশান্তির সূত্রপাত। তাঁর কথায়, “আমি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এসেছি। যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে।” তবে ঘটনার পর কাউন্সিলর ও পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনও থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের একটাই দাবি, দ্রুত দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করে এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।










