Site icon Hindustan News Point

ব্যাঙ্কের জমা না বাড়লে ঋণ দেবে কীভাবে?

Bank Deposit Crisis

কুশল চক্রবর্তী
ভারতীয় অর্থনীতির সঙ্গে ব্যাঙ্কের এখন গভীর যোগাযোগ (Bank Deposit Crisis)। ব্যাঙ্কের জমার পরিমাণ আর ঋণ দেওয়ার ক্ষমতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি। সদ্য প্রকাশিত খবর অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, দেশে ঋণ নেওয়ার প্রবণতার উন্নতি হলেও ব্যাঙ্কের জমার হার সেই অনুপাতে বাড়ছে না।

প্রাথমিকভাবে এর দুটো কারণের একটা হচ্ছে, ব্যাঙ্কে সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা আর কারেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা সেই ভাবে বাড়ছে না। এই দুই অ্যাকাউন্টে সুদের হার কম বলে, ব্যাঙ্কের কাছে এই দুটো অ্যাকাউন্টের জমা টাকা খুবই লাভজনক। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, ফিক্সড ডিপজিট বা মেয়াদি জমাও আশানুরূপ বাড়ছে না। মেয়াদি জমা ব্যাঙ্কের কাছে ততটা লাভজনক না হলেও ব্যাঙ্কের ঋণ দেওয়া যোগ্য টাকার দরকারে এর উপযোগিতা অনেক।

আরও পড়ুন: টাকার পতন ঠেকাতে ডলার বিক্রি RBI-এর, নেপথ্যে কি অন্য কারণ?

সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে সেভিংস আর কারেন্ট অ্যাকাউন্ট জমা দিনের দিন কমছে। ২০২২ সালে যা ছিল ব্যাঙ্কিং জমার ৪৪% তা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৩৭-৩৯%। এই জমা ব্যাঙ্কের কাছে সবচেয়ে বেশি লাভজনক। কারণ এতে ব্যাঙ্ককে সবচেয়ে কম সুদ গ্রাহককে দিতে হয়। এই দুই অ্যাকাউন্ট জমা কম আসার একটা বড় কারণ হচ্ছে, একদিকে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা রাখলে অতি কম সুদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়ায়, এই ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা যখন তখন অন্য অধিক সুদে টাকা রাখার অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। অন্য দিকে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপজিটেও ভাটার টান। কারণ শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের বাড়বাড়ন্তের ফলে অধিক লাভের আশায় গ্রাহকের উৎসাহ আজকাল ওইদিকে প্রবাহিত হচ্ছে। (Bank Deposit Crisis)

তবে ব্যাঙ্কও এই বিষয়ে তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। কারণ, ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকে যেভাবে ব্যাঙ্কগুলো “ডিপজিট মোবিলাইজেশান সপ্তাহ” পালন করত বা ব্যাঙ্কে গ্রাহক এলেই তাকে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপজিট করতে উৎসাহ দিত তা আর এখন তেমন দেখা যায় না। তার চেয়ে এখন ব্যাঙ্কে গেলেই এখন মিচুয়াল ফান্ডের “লগ ইন ডে” বা ইন্সুরেন্সের “লগ ইন ডে” নিয়ে তৎপরতা অনেক বেশি।

ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। যেখানে ধার নেওয়ার প্রবনতা বাড়ছে ১৭.৭%, তখন জমার বৃদ্ধি মাত্র ১২%। অন্য দিকে আবার ফিক্সড ডিপজিটে বেশি সুদ দেওয়ার ফলে ব্যাঙ্কের কাছে সেই জমা হচ্ছে অনেক দামি (এছাড়াও আছে অনেক বেশি সুদের সার্টিফিকেট অফ ডিপজিট)। লোন বা ঋণের উপর সুদ যেহেতু তত বাড়ছে না, তাই লাভ রাখতে ব্যাঙ্কের অন্য কোথাও খরচা কমাতে হচ্ছে। তার ফলস্বরূপ কোপ পড়ছে ব্যাঙ্কের নতুন কর্মচারি নিয়োগে। ব্যাঙ্কের প্রবনতা বাড়ছে আউট সোর্সের লোক দিয়ে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার। অন্যদিকে লোন বা ঋণের যে বৃদ্ধি ঘটছে তাতেও থাকছে প্রশ্ন। (Bank Deposit Crisis)

ছবিটি প্রতীকী

ইদানীং যে লোন বা ঋণের বৃদ্ধি ঘটছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে স্বর্ণ লোনের পরিমাণ খুব বেশি। এই সোনা বন্ধক দিয়ে যারা ধার নিচ্ছে তাঁরা কি শিল্পে তা লাগাচ্ছে, না কি তাদের অর্থনৈতিক কোনও বাধ্যবাধকতার জন্য এই ঋণ নিতে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন? পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে দেশের খুচরো ঋণের যে বৃদ্ধি, তার দ্বিতীয় স্থান দখল করে রেখেছে সোনা বন্ধক রেখে লোন বা ঋণ। এটা ঠিক সোনা বন্ধক রেখে ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের হয়তো সেই ঋণের তামাদি হওয়ার সুযোগ কম থাকছে। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে তার কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। (Bank Deposit Crisis)

আরও পড়ুন: ৬৫ টাকার চাকরি থেকে ২০ হাজার কোটির ব্যবসা, জানেন কি ‘অরুণ’ আইসক্রিমের সাফল্যের গল্প?

কিন্তু ব্যাঙ্ক বুঝতে পারছে ব্যাঙ্কে কম সুদের জমার পরিমাণ না বাড়লে মানে সেভিংস আর কারেন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা বেশি না এলে, তাদের লাভের মাত্রা ঠিক রাখতে অন্য দিকে খরচ ছাঁটাই করতে হবে। অন্যথায় কর্পোরেট লোনে বা ঋণে সুদের মাত্রা বাড়িয়ে আয়ের বিকল্প রাস্তা খোঁজা যে সহজ হবে না, তা তো বলাই বাহুল্য।

কারণ তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক “বড় স্বার্থ”!


Exit mobile version