Site icon Hindustan News Point

Bank Fraud in India: বেসরকারি ব্যাঙ্কে আবার প্রতারনা, প্রশ্নের মুখে আমার-আপনার বিনিয়োগ

Bank Fraud in India

কুশল চক্রবর্তী
আবার বেরিয়ে পড়ল নতুন নতুন গজিয়ে ওঠা বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাঙ্কের প্রতারনার ঘটনা (Bank Fraud in India)। হারিয়ানা ও চণ্ডীগড়ে তিনটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক-এউ স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক (AU Small Finance Bank), আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক (IDFC First Bank) আর কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কে (Kotak Mahindra Bank) উঠে এসেছে ৯৫০ কোটি টাকার প্রতারনার ঘটনা। এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে যে, এই সব ব্যাঙ্কে রাখা সরকারি টাকা মানে জনগণের টাকা প্রায় একই পদ্ধতিতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে সন্দেহের বাইরে যেমন থাকেনি ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা তেমনই রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাও।

আসুন একবার দেখা যাক এই ব্যাঙ্কগুলোর ইতিহাস। এউ স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক গঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালে, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক এসেছে ২০১৮ সালে আর কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক তাদের কাজ শুরু করেছে ২০০৩ সালে। ব্যাঙ্কিং ব্যবসার ইতিহাস বলে যত পুরনো ব্যাঙ্ক, তত তাদের উপর গ্রাহকের ভরসা। আর এই যে ৯৫০ কোটি টাকার প্রতারণা হলো তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কী ভাবে সরকারি টাকা ব্যাঙ্ক আর সরকারি আধিকারিকদের “মিলি ভগতে” ব্যক্তিগত ব্যবসায় লাগানো হয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতীয় ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার কর্ণধার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তাদের বার্ষিক ব্যাঙ্কিং প্রতারণা রিপোর্টে বলেছিল, ভারতে যে বার্ষিক ব্যাঙ্কিং প্রতারণা হয় তার ৫৯% হয় প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলোতে। হয়তো তাতে টাকার পরিমাণ কম, কিন্তু সংখ্যাটা যথেষ্টই বেশি।

অন্যদিকে সরকার পরিচালিত ব্যাঙ্ক প্রতারনার সংখ্যা কম হলেও টাকার পরিমাণ থাকে বেশি। কারণ, সরকারি ব্যাঙ্কের বেশিরভাগ প্রতারনাই হয় ঋণ সংক্রান্ত ব্যাপারে। আসলে সরকার পরিচালিত ব্যাঙ্ককে অনেক সময়েই ঋণ দিতে হয় রাজনৈতিক কারণে, সেটা তো কারও অজানা নয়। ভারতীয় ব্যাঙ্কের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, ২০০০ সালের আগে সরকারি জমা নিয়ে কাজ করত মূলত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আর রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কগুলো। ২০০০ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার সামান্য কিছু সরকারি তহবিল রাখার কাজ প্রাইভেট ব্যাঙ্কের হাতে তুলে দেয়। আবার ২০১২ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি টাকা প্রাইভেট ব্যাঙ্কে রাখার ব্যাপারে কিছু নিয়ম নিয়ে আসে। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে নতুন সরকার আসার পর থেকে দেখা যায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রতি কিছুটা হলেও তাদের বিমাতাসুলভ ব্যবহার। চেষ্টা শুরু হয়, প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলোকে আরও বেশি প্রাধান্য দিয়ে সরকারি ব্যাঙ্ক পরিসর ছোট করে আনার। অবশেষে ২০১৯ আর ২০২০ সালে এসে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের ব্যাঙ্কিং মানচিত্র থেকে চিরকালের জন্য মুছে ফেলে বহু বছরের পুরোনো সব ব্যাঙ্ক। চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় বিজয়া বাঙ্ক, দেনা ব্যাঙ্ক, ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক, সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক, কর্পোরেশান ব্যাঙ্ক, অন্ধ্র ব্যাঙ্ক আর এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক। এদের জুড়ে দেওয়া হয় অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সঙ্গে।

এবার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে, আগের সরকারের বেসরকারি ব্যাঙ্কের উপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ সরিয়ে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি তহবিল পুরোপুরিভাবে বেসরকারি ব্যাঙ্কে রাখার সুযোগ করে দেয়। এরপর সেই বছরেরই মে মাসে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলোকে অধিকার দেয় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সব রকমের তহবিল নিয়ে কাজ করার।

ফিরে আসি, এই হরিয়ানা আর চণ্ডীগড়ের বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলোর প্রতারনার ঘটনায়। সেই ঘটনার রিপোর্ট পরিষ্কার বলছে, এই প্রতারনার অন্যতম কারণ হচ্ছে দুর্বল অডিট আর হিসাবের সমন্বয় সাধনের অসাফল্য (failure of reconciliation process) বা এই অতি প্রয়োজনীয় কাজটাকে এড়িয়ে যাওয়া। এই ধরনের দুর্বলতা বেসরকারি ব্যাঙ্কে নতুন নয়, এটা আগেও ছিল। তবে কেন সরকারি টাকা বা আপামর জনগনের টাকা এদের হাতে বিনা শর্তে তুলে দেওয়া হলো?

১৯৬৯ সালের ১৯ জুলাই ঐতিহাসিক ব্যাঙ্ক জাতীয়করনের সিদ্ধান্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে কতটা উজ্জ্বল করেছিল তা নিয়ে তর্ক হতে পারে, কিন্তু এই সিদ্ধান্তে অনেক বেশি ছিল ভারতীয় অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। এই সিদ্ধান্ত জনগনের সুখ দুঃখের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছবিকে ধূসর করার চেষ্টায়, যারা সরকারি ব্যাঙ্কের আধিপত্য খর্ব করতে চাইছে, তারা ভারতের রাজ্যের আর কেন্দ্রের আপামর জনগণের টাকার উপরে চিন্তার মেঘ ডেকে আনছে না তো?


Exit mobile version