Site icon Hindustan News Point

East India Company: ইংরেজ থেকে ভারতীয়র হাতে, ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে বন্ধ হচ্ছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

East India Company

ইতিহাসের এক বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে নাম জুড়ে আছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। এক থেকে প্রায় ১৭০ বছর আগে যে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছিল, সেই East India Company পুনরুদ্ধারের পর এবার আর্থিক সঙ্কটে পড়ে ফের বন্ধ হয়ে গেল। একসময় যে কোম্পানির হাত ধরে ব্রিটিশরা ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে শোষণের ইতিহাস তৈরি করেছে, সেই নামটিই আবারও ব্যবসায়িক দুনিয়া থেকে মুছে যেতে চলেছে।

২০২৫ সালে কোম্পানিটি গুরুতর আর্থিক সমস্যায় পড়ে। বিপুল ঋণের বোঝা, বকেয়া পরিশোধে অক্ষমতা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে শেষ পর্যন্ত লিকুইডেশনের পথে হাঁটতে হয় কর্তৃপক্ষকে। আদালতের মাধ্যমে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে লিকুইডেটর নিয়োগ করা হয়েছে এবং সংস্থার সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত বছরে এই কোম্পানির কাঁধে ছিল ১৯৩,৭৮৯ পাউন্ড (প্রায় ২,৩৮৬ কোটি টাকা) কর এবং কর্মচারীদের পাওনা বাবদ ১৬৩,১০৫ পাউন্ড (১,৯৯৯ কোটি টাকা) বকেয়া। এই বিপুল ঋণের বোঝা সামলাতে না পারার ফলে বহুদিনের বিতর্কিত কিন্তু ঐতিহাসিক এই নাম আবারও বন্ধের খাতায় নাম লেখাল।

এই কোম্পানির ইতিহাস চার শতাব্দীরও বেশি পুরনো। ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (East India Company)। শুরুতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্বদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এই কোম্পানি, আর সেখান থেকেই ভারতে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি গড়ে ওঠে এই কোম্পানির হাত ধরেই।

কোম্পানির শাসনকাল ভারতীয় ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে, সে ইতিহাস আমাদের অজানা নয়। অর্থনৈতিক শোষণ, কৃষিনীতি পরিবর্তন, দুর্ভিক্ষ এবং সম্পদের বিপুল পরিমাণ বিদেশে পাচার, সব মিলিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম আজও বিতর্কিত। সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার নিজের হাতে নেয়। এরপর ধীরে ধীরে কোম্পানির ক্ষমতা কমে আসে এবং অবশেষে ১৮৭৪ সালে তার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।

তবে বহু বছর পর, ২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা এই কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করে নতুনভাবে বাজারে ব্যবসা শুরু করেন। লন্ডনের অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল চা, কফি ও লাইফস্টাইল পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

কিন্তু সেই দ্বিতীয় অধ্যায়ও দীর্ঘস্থায়ী হল না। আর্থিক সঙ্কট ও ঋণের চাপে পড়ে কোম্পানিটি আবার বন্ধ হয়ে গেল। ইতিহাসের ভার বহন করা একটি নাম, যা একসময় সাম্রাজ্য গড়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছিল, এখন তা শুধুই অতীতের একটি অধ্যায় হয়ে রইল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এই দ্বিতীয়বার বন্ধ হয়ে যাওয়া যেন ইতিহাসেরই এক সমাপ্তি।


Exit mobile version