দেশের লক্ষ লক্ষ গিগ ওয়ার্কার, ফ্রিল্যান্সার, স্বনিযুক্ত ব্যক্তি এবং কর্মীদের জন্য বড় সুখবর দিল EPFO। এবার EPFO এমন একটি নতুন প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) প্রকল্প চালুর কথা ভাবছে, যার মাধ্যমে এই সকল শ্রেণির মানুষও স্বেচ্ছায় টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারবেন। এখনও এই সুবিধা মূলত চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রথমবারের মতো EPFO-র আওতায় আসতে পারেন।
বর্তমানে EPF-এর সুবিধা শুধুমাত্র সেই সব কর্মচারীরাই পান, যারা ২০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন সংগঠিত সংস্থায় কাজ করেন। কিন্তু বর্তমানে দেশের বড় একটি অংশই গিগ ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। ফুড ডেলিভারি কর্মী, ক্যাব চালক, ফ্রিল্যান্সার, ইউটিউবার, ছোট ব্যবসায়ী, স্বনিযুক্ত পেশাজীবী লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনও এই PF সুবিধার আওতায় পড়েন না। এদের বেশিরভাগেরই অবসরকালীন সঞ্চয়েরও কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। সেই কারণেই এই নতুন প্রকল্প আনার পরিকল্পনা করছে EPFO। (EPFO New Scheme)
কীভাবে চলবে নতুন ব্যবস্থা?
প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি ইউনিভার্সাল প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা হতে পারে। এখানে কোনও নিয়োগকর্তার প্রয়োজন হবে না। গ্রাহক নিজেই নিজের নামে একটি PF অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা জমা করতে পারবেন। সেই টাকা এবং তার উপর পাওয়া সুদ মিলিয়ে ধীরে ধীরে একটি বড় অবসরকালীন তহবিল তৈরি হবে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে স্বল্প পরিমাণে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ। বর্তমানে EPF-এ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় তেমন কোনও বাধ্যবাধকতা নাও থাকতে পারে। কারও আয় যদি প্রতিদিন হয়, তিনি প্রতিদিন টাকা জমা দিতে পারবেন। কেউ চাইলে মাসে একবার বা বছরে একবারও টাকা জমা করতে পারবেন। অর্থাৎ যার যখন সামর্থ্য হবে, তখনই তিনি নিজের PF অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে পারবেন। অনিয়মিত আয়ের মানুষের জন্য এই সুবিধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে কর ছাড়ের সুবিধাও থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমার উপর কর ছাড় পাওয়া যেতে পারে। শুধু তাই নয়, জমা টাকার উপর যে সুদ মিলবে, সেটিও করমুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের পাশাপাশি কর বাঁচানোর সুযোগও মিলতে পারে। (EPFO New Scheme)
তবে এই প্রকল্পে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আর্থিক অনুদান থাকবে না। অর্থাৎ এটি প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনা-র মতো সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত পেনশন প্রকল্প নয়। এখানে প্রত্যেক গ্রাহক নিজের টাকাতেই নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে তুলবেন।
চালু হলো EPFO-র পাসবুক পোর্টাল, ৮.২৫% হারে সুদের টাকা ঢুকেছে তো? এখনই দেখে নিন
এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য EPFO ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। নতুন ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে কাজও এগোচ্ছে। এছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিগ ও স্বনিযুক্ত কর্মীদের জন্য কী ধরনের অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প চালু রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছেন EPFO-র আধিকারিকেরা। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভারতের জন্য উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করা হবে। (EPFO New Scheme)
তবে পুরো বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার আগে সরকারের বিভিন্ন স্তরের অনুমোদন পাওয়া এখনও বাকি। ভবিষ্যতে যদি সবুজ সংকেত মেলে দেশের সমস্ত গিগ ওয়ার্কার, ফ্রিল্যান্সার, স্বনিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রথমবারের মতো EPFO-র মাধ্যমে নিয়মিত অবসরকালীন সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন। এতে ভবিষ্যতে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও অনেকটাই শক্তিশালী হবে।

