Site icon Hindustan News Point

Form 121 Banking Rules: সমন্বয়ের অভাব, 15G আর 15H-এর পরিবর্তিত রূপে মুশকিলে গ্রাহকরা

Form 121 Banking Rules

কুশল চক্রবর্তী
প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেন অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় শিক্ষা আর কিছু নেই। বিগত ১০-১২ বছরে ভারতের আপামর নাগরিকের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান হলো, এই কেন্দ্রীয় সরকার কিছু পরিবর্তনের কথা বললেই আপামর জনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। এবারে যেমন ব্যাঙ্কের মেয়াদি জমা বা অন্য এমনই কোনও কিছুর উপর উদ্ভূত সুদের উপর থেকে সরাসরি কর কাটা থেকে বিরত থাকার জন্য এযাবতকালীন প্রদেয় 15G বা 15H ফর্ম দেওয়ার নিয়ম পাল্টানোর জন্য যা হল, তা আরও একবার আপামর জনগণকে বোঝাল, সাধু সাবধান (Form 121 Banking Rules)।

২০২৬ সালের বাজেটে, মানে ২৬-২৭ সালের অর্থবর্ষের নিরিখে ঘোষিত নিয়মে, এবার থেকে ব্যাঙ্কের বা ওই ধরনের অন্য কোনও মেয়াদি জমায় পাওয়া সুদের উপর সরাসরি কর কাটা বন্ধ করতে আমানতকারীকে 15G বা 15H দেওয়ার জায়গায় নতুন ফর্ম 121 জমা দিতে হবে। এই খবরটা সমাজমাধ্যমে প্রায় মার্চ মাসের মধ্যভাগ থেকেই ঘুরছিল। কিন্তু সরকার বাহাদুর মাঝে মাঝেই আপামর জনগণকে সাবধান করে থাকে যে সমাজমাধ্যমের খবর বিশ্বাস করার আগে যাচাই করে নিতে। কথাটা যে একবারে মিথ্যা তা হয়তো নয়। কিন্তু একাধিক মানুষ একাধিক ব্যাঙ্কে এই সম্বন্ধে খবর নিতে গেলে হতাশ হতে হয় তাদের। ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা জানান, তাঁদের কাছে এই সম্বন্ধে কোনও সঠিক খবর নেই। ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই, তাঁরা তো ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তজনিত বিজ্ঞপ্তি না পেলে কিছু বলার জায়গায় নেই।

আরও পড়ুন: PF-এর টাকা তোলা যাবে UPI দিয়েও, চালু হচ্ছে EPFO 3.0

সূত্র মারফত জানা যায়, বেশীরভাগ ব্যাঙ্কেই এই সম্পর্কে খবর আসে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ। কিন্তু প্রায় সর্বত্র ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায়, গ্রাহক ও ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের উপায় ছিল না এই তথ্য আদাপ্রদানের। অতএব ২ এপ্রিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখায় বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহক জমা হন এই ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য। এবার দেখা যায় এক অদ্ভুত অবস্থা, কোনও কোন ব্যাঙ্কের শাখা বলে, ‘121 নম্বর ফর্ম ছেপে এলে তা আপনারা এসে নিয়ে তারপর জমা দেবেন।’ আর কোনও কোনও ব্যাঙ্ক বিগত দিনের 15G বা 15H ফর্ম জমা নিয়ে নেয়। আবার কোনও ব্যাঙ্কের শাখা বলে ১২১ ফর্মে, 15G বা 15H যে ভাবে লিখেছেন সেভাবেই লিখে জমা দিন। কী বিচিত্র পরিস্থিতি।

অন্য দিকে বেশিরভাগ ব্যাঙ্কের অবস্থা দেখুন, ব্যাঙ্কের কম্পিউটারে যে জিনিসগুলো পোস্ট করা হয় তার ফরম্যাটটা কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, তবে তা পূরণ করে কাজটা করতে হয়। বেশিরভাগ ব্যাঙ্কের স্ক্রিনেই এই নতুন ফর্মের ছবি হয়তো তৈরিই হয়নি। তবে তাঁরা কী করে নতুন ফর্ম, মানে 121 নম্বর ফর্ম পূরণ করবে কম্পিউটারে? অতএব কী হলো? 15G বা 15H ফর্ম বা 121 নম্বর ফর্ম, যাই গ্রাহক পূরণ করে দিল না কেন, সবই কিন্তু কম্পিউটারে পূরণ হলো 15G বা 15H-এর মতো। এদিকে নতুন 121 ফর্ম কী ভাবে পূরণ করতে হবে তা গ্রাহককে বুঝিয়ে দেওয়ার মতো লোক বল ব্যাঙ্কে কোথায়? অন্যদিকে 121 ফর্মে এমন কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহক তা দেওয়ার মতো অবস্থায় নাও থাকতে পারে। তাহলে হয়তো তাঁকে এই অর্থবর্ষে আয়কর রিটার্ন ফাইল করতে হবে। তাতেও হয়তো অনেকেরই কর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পড়বে না। কিন্তু এখনকার সরকার হয়তো প্রসাদ অনুভব করবেন আগের সরকারের আমলের চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক কর জমা দিচ্ছে এই প্রচার করে।

আরও পড়ুন: বেসরকারি ব্যাংকে আবার প্রতারনা, প্রশ্নের মুখে আমার-আপনার বিনিয়োগ

কিন্তু ব্যাঙ্কের দরজায় আসা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অশতিপর বৃদ্ধ বৃদ্ধা থেকে আরম্ভ করে সামান্য পেনশনের উপর জীবিকা নির্ভরকারী মানুষগুলোর চরম হয়রানির উত্তর কে দেবে? যে দেশের সর্বময় কর্তা দেশকে আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ত প্রসারের পীঠস্থান বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন তাঁর কাছে কি পৌঁছবে যে বিভিন্ন দপ্তরের সামান্য সমন্বয়ের অভাবে প্রযুক্তির এই দীর্ঘসূত্রতার কথা?

বহুল প্রচারিত এই যে “বিকশিত ভারতের” চিত্র, কোথায়ও কি একটু হলেও ধূসর হচ্ছে না?


Exit mobile version