Site icon Hindustan News Point

Dream11 থেকে IDFC First Bank, BCCI এর স্পনসররা মাঝে মাঝেই ‘খবরে’ থাকে

IDFC First Bank

কুশল চক্রবর্তী
ভারতীয় ক্রিকেটের আরেক স্পনসর অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ল। খবর উঠে এল IDFC First Bank হরিয়ানায় ৫৯০ কোটি টাকার এক অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে। এই আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা BCCI-এর টাইটেল স্পনসর। ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের যাবতীয় খেলার টাইটেল স্পনসর হিসাবে উদয় হয়েছিল। অবাক হবার মতো ব্যাপার এটাই যে, সময়ে সময়ে দেখা গিয়েছে BCCI-কে যারাই স্পনসর করেছে তাদের অনেকেই পরবর্তী অধ্যায়ে সন্দেহজনক ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েছে।

ইতিহাসটা একটু দেখুন, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০১ সাল অবধি ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়েছিল, সিগারেট প্রস্তুতকারক সংস্থা উইলস। পরে অভিযোগ ওঠে যে, ভারত সরকারের নিয়ম কানুন এড়িয়ে কায়দা করে তারা সিগারেটের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। ভারতে ২০০৪ সাল থেকে কোনওরকম তামাক জাতীয় জিনিসের, যার মধ্যে কিনা সিগারেটও পরে, সরাসরি বা অপ্রত্যক্ষভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া নিষিদ্ধ। বাধ্য হয়ে BCC-Iকে সরিয়ে দিতে হয় উইলসকে।

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রচুর টাকা ঢেলেছিল সুব্রত রায়ের সাহারা গ্রুপ। সেটা ছিল ২০০১ থেকে ২০১৩ সালের কথা। ৩ কোটি গ্রাহককে অর্থনৈতিকভাবে প্রতারণার অভিযোগে এই সাহারা গ্রুপের কর্ণধার সুব্রত রায়কে গ্রেফতার করার পর BCCI বাধ্য হয় সাহারা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানতে। এর পর চিনের মোবাইল কোম্পানি Oppo-র সঙ্গে মাত্র দুই বছরের সম্পর্ক ছিল BCCI-এর। তাদের চলে যেতে হয় বৈদেশিক মোবাইল ব্যবসা সংক্রান্ত নানা রকম কথা ওঠায়।

২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল অবধি ভারতীয় ক্রিকেটের স্পনসর ছিল Byju’s। কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের বিপক্ষে উঠতে আরম্ভ করে নানা অভিযোগ। কোম্পনিতে দেখা যায় অর্থনৈতিক দৈন্যতা, ধার দেনা সংক্রান্ত ও অন্যায়ভাবে লোক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে দেখা যায় Byju’s-এর যা অবস্থা তার অন্যতম কারণ তাদের ২২০০ কোটি টাকর উপর বিজ্ঞাপনের খরচা। এর মধ্যে অবশ্যই পরে BCCI-কে দেওয়া স্পনসর হিসাবে টাকাও। BCCI-য়ের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নেয় Byju’s।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল অবধি গাঁটছড়া বেঁধেছিল Dream11 নামে একটি গেমিং সংস্থা। সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই সংস্থা ও এইরকম আরও সংস্থার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এলে, ভারত সরকার এই সব সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু আইন প্রণয়ন করে। যার ফলে ভারতে Dream11-এর পক্ষে তাদের ব্যবাসা চালনো মুশকিল হয় এবং তারা স্পনসরশিপ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। যে বিষয়টি ভাবার, তা হচ্ছে BCCI যখন কোনও সংস্থার সঙ্গে ক্রিকেটের ব্যাপারে চুক্তি করে তাঁরা কি একবারও দেখে না যে, সেই সংস্থাগুলো কী ধরনের ব্যবসা করে বা তাদের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য কী এমন, যে পরিমাণ টাকা তারা স্পনসর হিসাবে দিচ্ছে, সেই অর্থের সঙ্গে তার সাযুজ্য আছে?

IDFC ফার্স্ট ব্যাঙ্ক, BCCI এর সঙ্গে ৫৬টা ম্যাচের জন্য ২৩৫ কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তি করে ২০২৩ সালে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্যাঙ্কিং জগতে প্রবেশ করা এই ব্যাঙ্ক, ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় বলতে গেলে নতুন ব্যাঙ্ক। এই সময়ের মধ্যেই তাঁরা জড়িয়ে পড়ল এত বড় এক অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে। এবারও কি এটা বলা যায় যে, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা ব্যাঙ্কিং জগতে চট জলদি কিছু অতিরিক্ত প্রচার পাওয়ার আশায় তারা তাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় হয়তো কিছু ডিলে দিয়েছিল? অথবা BCCI-কে স্পনসর করার মধ্যে দিয়ে কিছু উচ্চপর্যায়ের মানুষের কাছাকাছি হতে চেয়েছিল? যাতে কি না আগামী দিন ব্যাঙ্কের কিছু “মুশকিলে” তাদের সাহায্য পাওয়া যায়?


Exit mobile version