পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। এর জেরে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ (India Bangladesh Diesel)। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ঘাটতি সামাল দিতে ভারতসহ একাধিক দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ। আর তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়াল ভারত।
বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য আমদানির উপরই নির্ভরশীল। দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে যায়। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সেখান থেকে থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গাড়ির জন্য জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে, ডিজেল বিক্রিতে কিছু নিয়ন্ত্রণ এনেছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গ্যাসের আকালে আপনিও আতঙ্কিত? প্রয়োজনে কীভাবে বুক করবেন সিলিন্ডার? দেখে নিন
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ শুরু করেছে। জানা গেছে, চিন ও ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় এক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো ডিজেলের মজুত রয়েছে এবং আরও এক মাসের জন্য জোগাড় করার চেষ্টা চলছে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল পাচ্ছে বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে। এর মধ্যে চিনের পেট্রো চায়নার একটি জাহাজে করে ২৭ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ভিটল নামের একটি সংস্থার ২৮ হাজার টনের আরেকটি জাহাজও বন্দরের বাইরে অপেক্ষা করছে।
এর পাশাপাশি ভারত থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রায় ৫,০০০ টন ডিজেল ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় তেল সংস্থা থেকে আরও প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমানের বক্তব্য, “ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি আছে, এবং সেই চুক্তি অনুসারে, ভারত প্রতি বছর পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১,৮০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এখন যে ৫,০০০ টন ডিজেল আসছে তা সেই চুক্তিরই একটি অংশ।” তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুসারে, ছয় মাসের মধ্যে কমপক্ষে ৯০,০০০ টন ডিজেল আসবে।

এই জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রেও। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে সমস্যা বাড়ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটায় অনেক কারখানাকে ডিজেল চালিত জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যেতে সমস্যার মুখে পড়ছেন শিল্প মালিকরা।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত যে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করছে, তা একদিকে প্রতিবেশী দেশের জন্য বড় স্বস্তি হলেও অন্যদিকে ভারতের ওপরও কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্থির থাকা এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় টান পড়ার মধ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি রপ্তানি করলে দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজর রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। তবে কৌশলগত ও কূটনৈতিক দিক থেকে দেখলে এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।













2 thoughts on “India Bangladesh Diesel: জ্বালানি সংকটে নাজেহাল বাংলাদেশ, প্রতিবেশিকে বাঁচাতে ৫০০০ টন ডিজেল পাঠাচ্ছে ভারত”