Site icon Hindustan News Point

Fuel Export Ban: ডিজেল আর এভিয়েশন ফুয়েলের উপরে রপ্তানি কর ভারতের, সমস্যা মিটবে?

Fuel Export Ban

কুশল চক্রবর্তী
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েল ইরানের উপর যৌথ আক্রমনের পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উদ্বেল। সারা বিশ্বের চালিকা শক্তি “ফসিল তেল” নিয়ে সব দেশই চিন্তিত (Fuel Export Ban)। পেট্রল, ডিজেল, এভিয়েশন ফুয়েল, গ্যাস নিয়ে সব দেশেই একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ভারত সরকার একটা প্রশংসাযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা হলো ভারতের পরিশোধিত তেল কোম্পানিগুলো, যারা বিদেশে ডিজেল বা এভিয়েশন ফুয়েল রপ্তানি করে, তাদের সেই উৎপাদিত জিনিসগুল এবার থেকে রপ্তানি করতে গেলে ডিজেলে ২১.৫০ টাকা/লিটার আর এভিয়েশন ফুয়েলে ২৯.৫০ টাকা/লিটার প্রতি কর (Special additional excise duty) দিতে হবে। অর্থাৎ কিনা ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলোকে ভারতীয় জনগনের জন্য তেলের যোগান দেওয়ার ব্যাপারে অধিক নজর দিতে।

এই কাজ ভারত সরকার ২০২২ সালেও করেছিল, যখন রাশিয়া আর ইউক্রেনের যুদ্ধের জন্য তেলের আমদানি নিয়ে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তাহলে এটা বলা যেতেই পারে ভারতের সব পরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো একটু হলেও পরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে মুশকিলে পড়ল। কারণ তেল রপ্তানি করা কোম্পানিগুলো এই ট্যাক্সের টাকা যদি তেলের দামের সঙ্গে যোগ করে, তাহলে বিশ্ব বাজারে তাদের পরিশোধিত তেল বিক্রি করা মুশকিল হয়ে যাবে। আর কোম্পানিগুলো যদি করের টাকা নিজেরা দিয়ে দেয়, তবে তাদের লাভের গুড় পিঁপড়ে খাবে।

কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই জানা গেল এই যে, বর্ধিত কর ভারতের একমাত্র কোম্পানি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিকে দিতে হবে না। অর্থাৎ কিনা তাদের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম তারা আগের দামেই বা তাদের পচ্ছন্দ মত দামেই বিক্রি করতে পারবে। এটা কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের আদেশে লেখা ছিল না। সাংবাদিকরা যখন একজন কেন্দ্রীয় কর দপ্তরের আধকারিককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, রিলায়েন্সের পেট্রলিয়ামের ক্ষেত্রেও কি এই কর দিতে হবে? তখন তিনি বলেন, রাশিয়া আর ইউক্রনের গন্ডগোলের সময় যে নিয়ম ছিল, মানে ২০২২ সালেও রিলায়েন্স পেট্রোলিয়ামকে (ইন্ডাস্ট্রি) এই কর দিতে হয়নি, এবারও সেটাই বহাল থাকবে। কেন দিতে হবে না রিলায়েন্স পেট্রোলিয়াম বা ইন্ডাস্ট্রিকে এই কর? কারণ, গুজরাটের জামনগরে তাদের যে বিশাল পরিশোধনাগারটা তৈরি হয়েছে এসিজেড (SEZ) মানে বিশেষভাবে সংরক্ষিত অর্থনৈতিক এলাকার মধ্যে। আর এই SEZ-এর শর্তই হচ্ছে, এই অঞ্চলে কোনও কারখানা বা ব্যবসায়িক কাজ করলে সরকার বাহাদুর নানারকম সুযোগ সুবিধা দেয় তাদের। তার মধ্যে আছে জমির উপর কর ছাড়, উৎপাদনের উপর কর ছাড়, উৎপাদন সহায়তার জন্য কিছু কিনলে তার জন্য কর ছাড় ইত্যাদি।

এই করের(SAED) জন্য প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে তাদের ১৫০০ কোটি টাকা আসবে। অন্যদিকে তারা ১০ টাকা করে প্রতি লিটারে Excise duty কম নেবে এই সব ডিজেল আর এভিয়েশন ফুয়েলের জন্য। এর ফলে তাদের কোষাগার থেকে ৭০০০ কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে। কিন্তু দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এই ট্যাক্সের টাকাটা যদি রিলায়েন্স পেট্রলিয়ামের উপরেও ধার্য করা হত তবে কি সরকারের ঘরে আরও বেশী করের টাকা আসত না? আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতে SEZ-এর মধ্যে এইরকম একটা পরিশোধনাগার ২০০৮ সালের পর থেকে অন্য কোনও প্রাইভেট সেক্টর বা পাবলিক সেক্টর কোম্পানি তৈরি করার অনুমতি পেল না বা উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন? এমনকি এই জামনগরে রিলায়েন্সের আরও একটা তেল পরিশোধনাগার আছে, সেটা SEZ মধ্যে নয়, তার উপরেও কি নজর রাখা হবে? অর্থাৎ তার উৎপাদন হঠাৎ কমে যাবে না তো? আর যে শোধনাগারটি SEZ-র মধ্যে অবস্থিত তার উৎপাদন হঠাৎ বেড়ে যাবে না তো?


Exit mobile version