কুশল চক্রবর্তী
একটা সময় ছিল বিশ্বে যুদ্ধের দাদামা বেজে উঠলেই মানুষের চিন্তা হতো অন্ন, বস্ত্র আর বাসস্থানের। এখন যুদ্ধের দাদামা বাজলে সারা বিশ্বের প্রচার মাধ্যমে উঠে আসে শেয়ার বাজারের কথা। আমেরিকা আর ইজরাইলের যৌথ আক্রমণে ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের প্রত্যুত্তর দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বের শেয়ার বাজারে যে তার প্রভাব পড়বে তা আশা করা গিয়েছিল (Iran Israel US war)। আর সৌদি আরবের শেয়ার বাজার টাডাউল যা কিনা রবিবারও খোলা থাকে, তাতে শেয়ায় সূচক ৪ শতাংশ নিচে নেমে যায়। তখনই সবাই অপেক্ষা করেছিল সোমবার পৃথিবীর বড় শেয়ার বাজারগুলো মানে নাসডাক, জাপানের টোকিও, চায়নার সাংহাই-এ কী অবস্থা হয় তা দেখার জন্য। সোমবার সকাল থেকেই দেখা যায় যে বিশ্বের প্রায় সব শেয়ার মার্কেটের শেয়ার সূচক নিম্নগামী। ভারতের শেয়ার মার্কেটও সেই পথেই পরিচালিত হয়।
সেনসেক্স নামে একটা সময় ১৬০০ পয়েন্ট আর নিফটি পড়ে পায় ৫০০ পয়েন্টে। মধ্য এশিয়ার যুদ্ধের দামামার ফলে খনিজ তেলের দাম আর সোনার দাম বাড়তে আরম্ভ করে আর সঙ্গে সঙ্গে পড়তে আরম্ভ করে ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গে ডলারের বিনিময় মূল্য। এক সময় তা ৯১ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এটা তো বহু পরিচিত সত্য যে বিদেশী বিনিয়গকারীরা এই অবস্থায় নিজেদের বিনিয়োগ সাধারণত সরিয়েই নেয়। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ চিরকালই বলেন বিদেশী বিনিয়োগকারী উপর ভারসা করে, যারা শেয়ার মার্কেটের মূল্যায়ন করেন তাঁদের উপর আস্থা রাখা মুশকিল।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো যে ভাবে মিচুয়াল ফান্ড বা SIP করার জন্য উৎসাহ দেয়, তাঁরা কি এই সময় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে? ধরা যাক আজ যদি কোনও ব্যক্তি তাঁর মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা তুলতে যান, তাহলে তিনি অবধারিতভাবে গত চার দিন আগের দামের কম পাবেন। এটা কিন্তু ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রে কখনই ঘটবে না। অন্য দিকে এই যুদ্ধের ফলে ভারতীয় বেশ কিছু কোম্পানি মানে L&T, ভোল্টাসের মতো কোম্পানি যারা কিনা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে নানা রকমের নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে তাদেরও চিন্তার শেষ নেই। আবার টাকার দাম বিশ্ব বাজারে পড়লে যে ভারতীয় কোম্পানিগুলো লাভের চেয়ে লোকসান হবে তাতে কিন্তু সন্দেহ নেই। এই মুহূর্তে বিশ্ব শেয়ার বাজারের অনিশ্চয়তা সুচক পৌঁছে গেছে ২২ শতাংশে। এই অবস্থায় যে বিদেশী লগ্নিকারী সংস্থাগুলো যে ভারতে নতুন করে লগ্নি করবে না এটা বলা যেতেই পারে। অন্য দিকে যুদ্ধ নিয়ে ভারতের কি অবস্থান থাকবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
তবে এই অবস্থা আরও কয়েক দিন চললে ভারতীয় মুদ্রার দাম যে বিশ্ব বাজারে আরও পড়বে এটা আশঙ্কা করা যেতেই পারে। তখন দেখা যাবে, ৬৭ টাকা এক ডলারের মূল্য হলে যারা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতেন, তাঁরা এবার কী করেন।














1 thought on “Iran Israel US War: যুদ্ধের দামামা বাজতেই শেয়ার বাজারে ধস”