২০২৬–’২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের প্রশংসায় সরব হয়ে তিনি দাবি করেন, এই বাজেট ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রবিবার লোকসভায় নবমবার বাজেট পেশের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেটে ইতিহাস ও ভবিষ্যতের মধ্যে এক চমৎকার ভারসাম্য রাখা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নে ফ্রেট করিডর, হাই-স্পিড ট্রেন প্রকল্প, লজিস্টিক্স শক্তিশালী করার মতো সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনৈতিক গতিকে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন ও পর্যটন বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা যুবসমাজের কর্মসংস্থানের নতুন দিশা খুলে দেবে। তাঁর মতে, এই বাজেট আসলে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ ভিশনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ।
মোদী আরও বলেন, ‘আত্মনির্ভর ভারত ও মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে নতুন গতি দিতে যুবসমাজ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিও দেশের যুবক ও MSME ক্ষেত্রের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে বলে দাবি করেন তিনি। বাজেটে ঘোষিত বায়ো-ফার্মা শক্তি মিশন, সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০, ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, রেয়ার আর্থ করিডর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর জোর দেওয়ার মতো পদক্ষেপ ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করবে বলেই মত প্রধানমন্ত্রীর।
জুড়ল বাংলা-গুজরাট, ৭ হাই স্পিড রেল করিডরের ঘোষণা নির্মলা সীতারামনের
এছাড়া ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির উপর জোর দিয়ে অ্যানিমেশন, গেমিং ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে বাজেট নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। বাজেট পেশের পর শেয়ার বাজারে বড় ধস নামে—সেনসেক্স ও নিফটি দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ে যায়। বিরোধীদের অভিযোগ, মূলধনী ব্যয় কম এবং কর বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বাজেটকে ‘দিশাহীন’ আখ্যা দেন। অন্যদিকে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে ‘গরিব ও কৃষকবিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। সব মিলিয়ে, প্রশংসা ও সমালোচনার মধ্যেই ২০২৬–’২৭ সালের বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।











