ফের বাড়ল পেট্রোল ও ডিজ়েলের দাম (Petrol Diesel Price Hike)। শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য। গড়ে প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজ়েলের দাম প্রায় ৩ টাকা করে বেড়েছে। ফলে নতুন করে চাপ বাড়ল সাধারণ মানুষের পকেটে। পাশাপাশি কেজিতে ২ টাকা করে বেড়েছে সিএনজি-র দামও।
রাজধানী দিল্লিতে এতদিন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৭৭ পয়সা। নতুন দাম অনুযায়ী তা বেড়ে হয়েছে ৯৭ টাকা ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজ়েলের দাম ৮৭ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকা ৬৭ পয়সায়।
কলকাতাতেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরে এখন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১০৮ টাকা ৭৪ পয়সা। অন্যদিকে ডিজ়েলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫ টাকা ১৩ পয়সা। মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম ১০৬ টাকা ৬৮ পয়সা এবং ডিজ়েলের দাম ৯৩ টাকা ১৪ পয়সা। চেন্নাইয়ে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম হয়েছে ১০৩ টাকা ৬৭ পয়সা, ডিজ়েলের দাম ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা।
শুধু পেট্রোল-ডিজ়েল নয়, সিএনজি-র দামও বেড়েছে। দিল্লিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতি কেজি সিএনজি-র দাম ছিল ৮৫ টাকা। শুক্রবার থেকে তা বেড়ে হয়েছে ৮৭ টাকা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পরেই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা অস্থির পরিস্থিতির জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ভারতের আমদানি ব্যয়ের উপর। ভারতকে পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা এবং রাসায়নিক সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার আবহে জ্বালানি ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
যদিও গত ১১ মাস ধরে দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের খুচরো দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম মোটের উপর স্থিরই ছিল। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে প্রতি লিটার জ্বালানিতে ২ টাকা করে দাম কমানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং তেল উত্তোলন ও আমদানির খরচ বাড়তে থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

