Site icon Hindustan News Point

ডিজিটাল প্রতারণার কবলে পড়লে ২৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ, বড় ঘোষণা RBI-এর

rbi

ডিজিটাল প্রতারণা বেড়ে চলার প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের সুরক্ষায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মনিটারি পলিসির বৈঠকের পর RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, ছোট অঙ্কের অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক আনা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন প্রতারিত গ্রাহকরা।

RBI সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই এই সংক্রান্ত খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ছোট মূল্যের ডিজিটাল প্রতারণার ক্ষেত্রে ক্ষতির একটি অংশ বহন করবে গ্রাহক ও ব্যাঙ্ক—দু’পক্ষই। প্রতারণার অঙ্কের ১৫ শতাংশ গ্রাহক ও ব্যাঙ্ক মিলিয়ে বহন করবে, আর বাকি ৮৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটা কম) দেবে RBI। এই অর্থ দেওয়া হবে RBI-র ডিপোজিট এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ফান্ড থেকে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার অব্যবহৃত আমানত রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনও গ্রাহক ৫০ হাজার টাকা প্রতারণায় হারান, তা হলে তিনি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। আবার কেউ যদি ২০ হাজার টাকা হারান, সেক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। RBI জানিয়েছে, ৫০ হাজার টাকার কম মূল্যের প্রতারণা সংখ্যার দিক থেকে মোট অনলাইন প্রতারণার প্রায় ৬৫ শতাংশ। তাই এই বড় অংশের গ্রাহকদের দ্রুত স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ধরনের ছোট অঙ্কের প্রতারণার ক্ষেত্রে গ্রাহক ভুল করে OTP শেয়ার করলেও ‘নো কোয়েশ্চনস আক্সড’ নীতিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃত বা দুরভিসন্ধিমূলক প্রমাণিত হচ্ছে।

এর পাশাপাশি, RBI ডিজিটাল পেমেন্ট সুরক্ষা আরও জোরদার করতে একটি আলোচনা পত্র প্রকাশের কথাও জানিয়েছে। সেখানে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত অথেনটিকেশন, প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমার ক্ষেত্রে সময়ের দেরি (lagged credit)–এর মতো বিষয় থাকতে পারে। এছাড়া ব্যাঙ্ক কাউন্টারে ভুল বুঝিয়ে পণ্য বা পরিষেবা বিক্রি বন্ধ করতে কড়া গাইডলাইন, ঋণ আদায়ে রিকভারি এজেন্টদের আচরণ নিয়েও নতুন নির্দেশিকা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে RBI। সব মিলিয়ে, গ্রাহক সুরক্ষা ও ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ে আস্থা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


Exit mobile version