Site icon Hindustan News Point

ATM Security: ATM-কে আরও নিরাপদ করার কথা ভাবছে RBI, উঠছে একাধিক প্রশ্ন

ATM Security

কুশল চক্রবর্তী
ATM নিয়ে গ্রাহকদের নানা অভিযোগ কমিয়ে আনতে ভারতীয় ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার কর্ণধার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ATM পরিষেবায় কিছু উন্নতির পরিকল্পনা করছে (ATM Security)। প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত জায়গায় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের ATM-এ প্রতারনার ঘটনা বেশি ঘটে, সেখানে এই সব পরিবর্তন আগে আনার কথা ভাবছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে আছে টাকা তোলার সময় ব্যক্তির মুখের সঙ্গে তাঁর অ্যাকাউন্টে থাকা ছবি মেলানো বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা তাঁর পরিচয়কে যাচাই করার পদ্ধতি। এছাড়াও আছে দরকার পড়লে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের সঠিক পরিচয় নির্ণয় করে ATM থেকে টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আশা করছে এই ধরনের উন্নতি, ব্যাঙ্কের ATM থেকে টাকা তুলতে গেলে যদি করা যায় তবে ATM-এ যে সব জালিয়াতি হয় তার অনেকাংশেই কমে যাবে। এই সব পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সব ব্যাঙ্কগুলোর কাছে তাদের নিজ নিজ অভিমত চেয়েছে। কারণ তাঁরা জানে এই ধরনের উন্নত পরিষেবা দিতে গেলে ব্যাঙ্কগুলোর ATM সংক্রান্ত খরচ অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলতে চাইছে এই পদ্ধতি চালু করলে প্রথমিকভাবে ATM-এ কোনও জালিয়াতির চেষ্টা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে আটকানোর উপায় থাকবে। এমনকী বায়োমেট্রিক পদ্ধতি থাকলে তো অপরের কার্ড চুরি করে টাকা তোলার ব্যাপার একবারে বন্ধ হয়ে যাবে তা আশা করা যায়।

RBI-এর লোগো

কিন্তু ভারতের বিভিন্নরকমের ব্যাঙ্কগুলো, যাদের নানা জায়গায় ATM আছে, তাদের ভাবতে হচ্ছে নানা বিষয়ে। একে তো এই যে ATM মেশিনকে উন্নত করার খরচা, ব্যাঙ্কের ভিতরকার সিস্টেমের সঙ্গে এই নতুন পরিষেবাকে সংযুক্ত করা, সর্বপরি NPCI-এর সঙ্গে তাকে তাল মেল রেখে চলার ব্যাপারে প্রস্তুত করা। সবকিছুতেই খরচ বাড়ার প্রবণতা থাকবে। এই খরচ বাড়ার ফলে, এই উন্নত পরিষেবা কতটা ব্যাঙ্কের কাছে লাভজনক হবে সেটাও দেখতে হবে।

১,৭২,০০,০০,০০,০০০ টাকা, ব্যাঙ্ক ঋণ মকুবের পালা চলেছেই

এছাড়াও আসছে এই পদ্ধতিগুলো যদি গ্রাহকদের সম্পর্কিত তথ্য বেহাত হওয়ার ব্যাপার থাকে, তো আরও মুশকিল। কারণ ভারতে যে ডিজিটাল ডাটা সংরক্ষণ আইন আছে তা প্রতিনিয়ত ব্যাঙ্কগুলোকে সাবধান করে গ্রাহকের তথ্য সম্বন্ধে সচেতন থাকতে। হয়ত এই ধরনের গ্রাহকের সঠিক পরিচয়ের ব্যবস্থার জন্য আধার কার্ডের সহায়তা লাগতে পারে। তা কি দিতে রাজি থাকবেন গ্রাহক? এ সব নিয়ে ব্যাঙ্কের চিন্তার ফলে যতটুকু জানা গেছে ব্যাঙ্কগুলো এই উন্নত ATM পরিষেবার ব্যাপারে এখনও চিন্তাভাবনা করছে। তবে এটা বলা যেতে পারে এই ব্যবস্থা চালু হলে ATM সংক্রান্ত অভিযোগ নিরশনের জন্য এখন ব্যাঙ্ককে যেই টাকা খরচ করতে হয়, তা অনেকটাই কমে আসবে। শুধু তাই নয় এক ব্যাঙ্কের কার্ড নিয়ে অন্য ব্যাঙ্কের ATM থেকে টাকা তুলতে গিয়ে যদি কোনও অসুবিধা হয় তাও কমে আসবে।

আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে এই যে ATM এ জালিয়াতিপ্রবণ এলাকাগুলোকে নির্ধারণ করাও এক মুশকিলের ব্যাপার। কারণ এখনও যে পরিমাণ ATM-এ জালিয়াতি বা ফ্রড হয় তার অনেকাংশই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ হিসেবে পৌঁছয় না। অতএব এটা নির্ধারণ করা মুশকিল হয়ে যায় যে এই অত্যাধুনিক প্রণালী কোথায় আগে বসানো হবে। কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও অবধি যে সব জায়গায় ATM জালিয়াতির সংখ্যাটা বেশী, যেমন জামতারা, ভরতপুর, গুরুগ্রাম, মথুরা এরাই হয়তো উন্নত পদ্ধতির আওতায় আগে আসবে। কিন্তু জালিয়াতরা কিন্তু বসে থাকে না। তারা কিন্তু নিত্যনতুন উপায় বার করে ATM-এর মাধ্যমে মানুষকে ঠকাবার। তাই সমাজের সার্বিক উন্নতি অনেক বেশি কাম্য মানুষকে এই প্রতারণার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।

জরিমানা নিয়েই ১৯ হাজার কোটি টাকা ঘরে তুলল ব্যাঙ্কগুলো


Exit mobile version