পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা (Rupee Hits all Time Low)। বুধবার মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির দাম নেমে এল সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে। সকাল প্রায় ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ এক ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময়দর দাঁড়ায় ৯২ টাকা ১৭ পয়সা। এর ফলে ৯২ টাকার গণ্ডিও ভেঙে গেল ভারতীয় মুদ্রা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান–ইজরায়েল সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বিশ্ব অর্থবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মুদ্রার উপর চাপ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় রুপির উপর।
রুপির এই দুর্বলতার অন্যতম বড় কারণ অপরিশোধিত তেলের দামে হঠাৎ উত্থান। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় কেন্দ্র। সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উপর প্রভাব ফেলে। ইতিমধ্যেই সেই আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
Iran Israel US War: যুদ্ধের দামামা বাজতেই শেয়ার বাজারে ধস
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি হয়। এতে চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কাও থাকে, যা রুপির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারও শক্তিশালী হয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা ডলার ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে পুঁজি উদীয়মান বাজার থেকে সরে গিয়ে ডলারের দিকে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব শেয়ার বাজারেও পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে পতনের পর এশিয়ার বাজারগুলিও দুর্বল সুরে লেনদেন শুরু করেছে। আগামী দিনে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের গতিপথই রুপির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।












