২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে রেল ও লজিস্টিক্স পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Union Budget 2026)। লোকসভায় বাজেট ভাষণে তিনি জানান, দেশে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর এবং একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে দূরপাল্লার যাত্রার সময় কমানো, পণ্য পরিবহণ আরও সস্তা ও নির্ভরযোগ্য করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে গতি দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডরের মধ্যে রয়েছে মুম্বই–পুনে, পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু–বারাণসী এবং বারাণসী–শিলিগুড়ি রুট। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই করিডরগুলি দেশের অর্থনৈতিক, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি হাবগুলিকে যুক্ত করবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলা। হুগলির ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। এই করিডরের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের শিল্পাঞ্চল সরাসরি যুক্ত হবে। ভারী পণ্য পরিবহণের জন্য আলাদা লাইনের ফলে যাত্রী ট্রেনের উপর চাপ কমবে এবং শিল্পের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমও কমবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরে ২০–২৫টি নতুন জাতীয় জলপথ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যা সড়ক ও রেলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের পরিবহণ মাধ্যম হিসেবে জলপথ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকাঠামোগত উদ্যোগ বিনিয়োগ টানতে সহায়ক হবে এবং জাতীয় সাপ্লাই চেনকে আরও মজবুত করবে।











