Site icon Hindustan News Point

US Sanctions Waiver: রাশিয়া-ইরানের থেকে তেল কেনার ছাড়ের মেয়াদ বাড়াবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফের জ্বালানি সংকটে পড়বে ভারত ?

US Sanctions Waiver

একদিকে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এই আবহেই বড় সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও রাশিয়ার তেলের ওপর আগে যে সাময়িক ছাড় (sanctions waiver) দেওয়া হয়েছিল, সেটি আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে নতুন করে চাপ বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে-এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১৫ মার্চ , বুধবার, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরান ও রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় আমেরিকার তরফে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার আর মেয়াদ বাড়ানো হবে না। তিনি বলেন,”আমরা রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর যে সাময়িক ছাড় (sanctions waiver) দিয়েছিলাম, তা এই সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সেই ছাড় নবীকরণ করা হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান “১১ মার্চ এর আগে সমুদ্রে থাকা যে তেল ছিল, তাও ইতিমধ্যেই ব্যবহার হয়ে গেছে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড় ঘোষণা করা হয়েছিল। এর ফলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রাশিয়া এবং ইরান থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কিনতে পারত, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বজায় থাকে এবং দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে। আগে এই ছাড়ের ফলে ভারতসহ একাধিক দেশ কিছুটা সুবিধা পেত। কিন্তু এখন সেই রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে বলেই আশঙ্কা। (US Sanctions Waiver)

এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামেও। বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে, আর সেটাই এখন বড় চিন্তার কারণ। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দামে, পরিবহণ খরচে, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত গত কয়েক বছরে রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে অনেকটা সুবিধা পেয়েছিল। যার কারণেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশকে কোনও বড়সড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুবিধা কমে যেতে পারে। বিকল্প উৎস থেকে তেল আনতে হলে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটেই চাপ ফেলবে। (US Sanctions Waiver)

Trump-Modi Phone Call: ট্রাম্প-মোদির ৪০ মিনিটের ফোনালাপ, কোন কোন বিষয়ে কথা হলো দু’জনের?

এছাড়াও সম্প্রতি ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় আকার নিতে পারে। আর যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা দাম বাড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কি আবার জ্বালানি সংকট দেখা দেবে? আপাতত সরাসরি সংকটের কথা বলা না গেলেও, পরিস্থিতি যে ধীরে ধীরে চাপের দিকে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে, যেখানে তেলের বড় অংশই আমদানি করতে হয়, সেখানে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।(US Sanctions Waiver)


Exit mobile version