মাতৃত্ব প্রতিটা মেয়ের জীবনে এক বিশেষ অধ্যায়। এই নতুন অধ্যায় প্রত্যেকের জীবনেই কমবেশি পরিবর্তন আসে। ঠিক যেমন মা হওয়ার পরে আলিয়া ভাটের সোশ্যাল মিডিয়া (social media platfroms) থেকে বিদায়ের ভাবনা। বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় দাঁড়িয়েও আলিয়া আজ ক্লান্ত ডিজিটাল কোলাহলে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, মা হওয়ার পর তাঁর মন চায় আরও শান্ত জীবন। এমন জীবন, যেখানে নিত্যদিনের অনুভূতি আর ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো আর ক্যামেরার সামনে সাজিয়ে রাখতে হয় না। রোজ রোজ ক্যামেরার সামনে বসে জীবনের লাইভ আপডেট দিতে দিতে সে ক্লান্ত। সেই ইচ্ছা, সেই ক্লান্তি থেকেই তাঁর মনে বারবার উঁকি দিচ্ছে এই কঠিন সিদ্ধান্ত। সমস্ত রকম সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ রকম বিরাম।
২০২২ সালের নভেম্বরে কন্যাসন্তান রাহার জন্মের পর থেকেই পরিবর্তন ঘটেছে আলিয়ার জগতে। তিনি জানানএখন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁর একটাই ইচ্ছে হয়। শুধু অভিনেত্রী হয়ে থাকা, অভিনয়ের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখা। নিজের জীবন নিয়ে অনলাইনে প্রতিদিন আলোচনা, পোস্ট আর ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্লান্তি তাঁকে ধীরে ধীরে দূরে ঠেলে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। আলিয়ার কথায়, সোশ্যাল মিডিয়া যেন এক অবিরাম ডাক। সব সময় কিছু না কিছু বলতে হবে, কিছু না কিছু দেখাতে হবে। কিন্তু মাতৃত্বের পর এই চাপ তাঁর কাছে ভারী হয়ে উঠেছে। নিজের জীবন নিয়ে একই কথা বারবার বলতে তিনি আর চান না। তিনি চান, জীবনের কিছু অধ্যায় থাকুক একান্তই তাঁর আর তাঁর পরিবারের জন্য।
তবু বাস্তবতা থেকে মুখ ফেরাননি আলিয়া। তিনি মানেন তাঁর কেরিয়ারের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এটিই সবচেয়ে সহজ পথ। তাই একদিকে অনলাইনে থাকা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত পরিসর বাঁচিয়ে রাখা। এই দুইয়ের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে তিনি আজ দ্বিধাগ্রস্ত। তবু তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ইঙ্গিত, বিদায়ের ভাবনাটা আর কল্পনা নয়, ধীরে ধীরে তা হয়ে উঠছে সিদ্ধান্ত। মজা করে আলিয়া জানান, এখন তাঁর ফোনের গ্যালারি শুধু মেয়ের ছবিতেই ভরা। নিজের ছবি তোলার সময় নেই, আগ্রহও নেই। আলিয়া ও রণবীর কাপুর দু’জনেই চেষ্টা করছেন রাহাকে লাইমলাইটের বাইরে রাখতে, তার শৈশবকে রাখছেন ক্যামেরার আড়ালে।
নতুন ছবি, হাজার কাজের ব্যস্ততার মাঝেও আলিয়ার এই স্বীকারোক্তি যেন সময়ের উল্টো স্রোতে হাঁটা। যেখানে প্রায় সকলেই লাইক, ফলোয়ার, কমেন্টে নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পান। সেখানে আলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের ভাবনা, জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত সময়ের কতটা প্রয়োজন তা বলার আর অবকাশ রাখে না।
