রিল আর রিয়েল লাইফ যে সত্যিই আলাদা তা আবারও প্রমাণ হলো এই ঘটনায়। ধুরন্ধর-এর মতো বিগ বাজেটের ছবিতে অভিনয় করেও নিজেকে বড়পর্দায় দেখার শখ মেটাতে পারেননি অটোচালক হরজিৎ। কী করেই বা পারবেন যে টাকা তিনি সারা মাসে সঞ্চয় করেন টিকিটের দামও প্রায় তাই। তাই ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই।
বিগত কয়েকদিনে বলিউডের ঝড় তুলেছে আদিত্য ধর পরিচালিত এবং রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’। এখনও এক সপ্তাহ পেরোয়নি তার আগেই কয়েকশো কোটির ব্যবসা করে ফেলেছে এই ছবি। কয়েক মাস আগেই মুক্তি পেয়েছিল এই ছবির প্রথম পর্ব ‘ধুরন্ধর’। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ছবির দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে দর্শকের মধ্যে উত্তেজনা ছিল দেখার মতো। কাজেই মুক্তির আগেই টিকিটের দাম হয়েছিল আকাশছোঁয়া। আর সেই কারণেই নিজে ছবিতে অভিনয় করেও সেই ছবি বড় পর্দায় দেখতে পারলেন না পাঞ্জাবের সামান্য অটোচালক। (Dhurandhar The Revenge)
‘ধুরন্ধর দ্যা রিভেঞ্জ’ ছবির একটি ছোট দৃশ্যে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন হরজিৎ। যারা ইতিমধ্যে ছবিটি দেখেছেন তাঁরা জানবেন, ছবিতে রণবীর সিং ওরফে যশকৃত সিং রঞ্জি যখন নিজের বাড়ি পাঞ্জাবে ফিরছিলেন তখন তাঁকে একটি অটোতে করে আসতে দেখা যায়। সেই অটোচালক ছিলেন হরজিৎ। খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও সিনেমার পর্দায় দেখা মিলেছে তাঁর। কাজেই সিনেমা মুক্তির পরে পরিবার তাঁর আবদার করে সেটি সিনেমা হলে দেখতে যাওয়ার। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেই তো আর উপায় মেলে না। একটি টিকিটের দাম প্রায় ৫০০ টাকা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে গেলে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২,৫০০ টাকা। সম্প্রতি একটি পাঞ্জাবী চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে হরজিৎ জানান ওই ২,৫০০ টাকাই তাঁর পুরো মাসের সঞ্চয়ের সমান। তাই বাধ্য হয়েই বলে যাওয়ার আশা ত্যাগ করেছেন।
Bird Flu: ফের এই রাজ্যে বার্ড ফ্লু আতঙ্ক, ৬ দিনের ব্যবধানে মৃত ৪৪০০ মুরগি
তিনি জানিয়েছেন, মাসে খুব অল্পই সঞ্চয় করতে পারেন। সেই কারণে এত বড় অঙ্কের টাকা শুধু সিনেমা দেখার জন্য খরচ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আপাতত তিনি অপেক্ষা করছেন পরবর্তীতে সুযোগ হলে হয়তো ছবিটি দেখতে পাবেন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন পড়েছে। একদিকে ছবিটি বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পাচ্ছে, অন্যদিকে সেই ছবিরই একজন ছোট অভিনেতা নিজের অভিনয় দেখতে পারছেন না, এই বৈপরীত্য অনেকের নজর কেড়েছে।(Dhurandhar The Revenge)
নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনার পর খুব ছোটো বা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ আবার এমনও দাবি করেছেন, এই ধরনের অভিনেতাদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা উচিৎ, যাতে তারা নিজেদের কাজ বড় পর্দায় দেখতে পারেন। এই ছোট্ট ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, সিনেমার আলো-ঝলমলের পর্দার পেছনে থাকা বহু মানুষের বাস্তব জীবন আদেও ততটা উজ্জ্বল নয়, তাদের থাকতে হয় অন্ধকারেই।












