বিনোদন জগতে ছবির নাম যে কতটা সংবেদনশীল বিষয় হতে পারে, তারই নতুন প্রমাণ মনোজ বাজপেয়ীর আসন্ন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’। নেটফ্লিক্সে ছবিটির ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিরোনামকে কেন্দ্র করে আইনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল এই সিনেমা। ছবির মুক্তি আটকানোর দাবিতে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযোগকারীর নাম মহেন্দ্র চতুর্বেদী। তিনি পেশায় একজন আচার্য এবং ভারতীয় ধর্মগ্রন্থের অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ছবির শিরোনামে ‘পণ্ডিত’ শব্দের সঙ্গে ‘ঘুষখোর’ বিশেষণ জুড়ে দেওয়ায় ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই নামকরণকে তিনি সরাসরি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
বলিউড সূত্রের খবর, আইনজীবী বিনীত জিন্দালের মাধ্যমে মহেন্দ্র চতুর্বেদী দিল্লি হাই কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে ‘পণ্ডিত’ শব্দটি জ্ঞান, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক পথনির্দেশের প্রতীক। সেখানে একটি সিনেমার শিরোনামে এই শব্দকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা সংবিধানের ১৪, ২১ এবং ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
অভিযোগকারীর আরও বক্তব্য, এই ধরনের নামকরণ শুধু একটি চরিত্রকে নয়, সমগ্র ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। তাই অবিলম্বে ছবিটির মুক্তি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতের কাছে। Manoj Bajpayee’s Ghooskhor Pandat
ইতিমধ্যে মনোজ বাজপেয়ী কয়েক ঘন্টা আগে তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জানান, মানুষের আবেগ ও উদ্বেগকে তিনি সম্মান করেন এবং বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন। তাঁর মতে, ছবিটি কোনও সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে নয়, তাই জনমতের কথা মাথায় রেখেই নির্মাতারা প্রচারমূলক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জল্পনার পাশাপাশি জানা গিয়েছে, ছবির গল্পে মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত চরিত্রের নাম অজয় দীক্ষিত, যিনি পেশায় একজন পুলিশ আধিকারিক। পরিচিতি ‘পণ্ডিত’ নামে হলেও তিনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার, যিনি ঘুষ নিয়ে কাজ সারেন। গল্পের মোড় ঘোরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনার পর, যা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে বাধ্য করে।
সব মিলিয়ে, মুক্তির আগেই নামের বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে মনোজ বাজপেয়ীর এই ছবি কতটা পথ এগোতে পারে, সেদিকেই এখন নজর বিনোদন মহলের। Manoj Bajpayee’s Ghooskhor Pandat

