Site icon Hindustan News Point

কার্টুন নয় সে এক নস্টালজিয়া, চলে গেলেন ‘ডোরেমন’ সৃষ্টিকর্তা Tsutomu Shibayama

Tsutomu Shibayama

বাস্তবে যদি সত্যিই ডোরেমন থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই তার কোনও গ্যাজেট ব্যবহার করে টাইম ট্রাভেল করে আবার ফিরিয়ে আনত নিজের স্রষ্টাকে। কিন্তু বাস্তবে তা আর সম্ভব নয়। প্রয়াত হলেন বহু প্রজন্মের শৈশবের প্রিয় চরিত্র ‘ডোরেমন’ এর অন্যতম নির্মাতা সুতোমু শিবায়ামা (Tsutomu Shibayama)।

৮৪ বছর বয়সে ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ‘আজিয়া দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস’ এর পক্ষ থেকে ১৭ মার্চ এই দুঃসংবাদ জানানো হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৬ মার্চ টোকিওতেই তাঁর মৃত্যু হয়, যদিও কয়েকদিন পর সেই খবর সামনে আসে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে নস্টালজিয়ার ঢেউ ওঠে, কারণ তাঁদের ছোটবেলার অসংখ্য স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শিবায়ামার কাজ।

জাপানের অ্যানিমে দুনিয়ায় সুতোমু শিবায়ামা (Tsutomu Shibayama) ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নাম। বহু বছর ধরে তিনি ‘ডোরেমন’-এর টিভি সিরিজ ও একাধিক সিনেমা পরিচালনা করেছেন। তাঁর হাত ধরেই ‘ডোরেমন’ জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নোবিতা, সিজুকা, জিয়ানদের সঙ্গে কাটানো শৈশব আজও যেন চোখের সামনে ভাসে সকলের। ছোটবেলায় সবাই বোধয় একবার হলেও ভেবেছে নোবিতার মতো আমাদের জীবনেও যদি ওই নীল রঙা মুশকিল আসান থাকত তবে কি ভালোই না হতো।

Fire Incident: সুরাটের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত ২, আহত বহু

শুধু ‘ডোরেমন’ নয়, আরও বহু অ্যানিমে প্রজেক্টের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন সুতোমু। সহজ গল্পের মধ্যে বন্ধুত্ব, পরিবার, হাসি-কান্না আর কল্পবিজ্ঞানের মেলবন্ধনই ছিল তাঁর কাজের বিশেষত্ব। ১৯৪১ সালে টোকিওতে জন্মগ্রহণ করেন শিবায়ামা। ধীরে ধীরে অ্যানিমেশন জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে জাপানের সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা তাঁকে সম্মানিতও করে।

শিবায়ামার (Tsutomu Shibayama) মৃত্যু মানে শুধু একজন পরিচালকের বিদায় নয়, বরং বহু মানুষের শৈশবের এক টুকরো হারিয়ে যাওয়া। অ্যানিমে জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতিচারণ করছেন।

তবে স্রষ্টার বেঁচে থাকেন সৃষ্টির মধ্যে। যতদিন ‘ডোরেমন’ থাকবে, যতদিন শিশুরা সেই কার্টুন দেখবে, ততদিন সুতোমু শিবায়ামার সৃষ্টি আর স্মৃতি বেঁচে থাকবে- প্রতিটা গল্পে, প্রতিটা হাসিতে, প্রতিটা শৈশবে।


Exit mobile version