অনেকেই হাতে মঙ্গল সুতো বা ‘ডোর’বাঁধেন (Astro Tips)। হিন্দু ধর্মে এই রীতি বহু প্রাচীন। যে কোনও পুজোয় বাড়ির বড় থেকে ছোট সব সদস্যরা ঈশ্বরের আর্শিবাদী এই সুতো হাতে বাঁধেন। তবে একে কেবল একটি সাধারণ সুতো ভাবলে ভুল হবে, এটি আসলে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ। কোনও পুজো, যজ্ঞ বা শুভ অনুষ্ঠানের সময় পুরোহিত মশাই মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এটি ভক্তদের হাতে বেঁধে দেন। লাল, হলুদ বা গেরুয়া রঙের এই ডোর নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করে বলে বিশ্বাস।
তবে অনেকেই একটা ভয়ঙ্কর কাজ করে থাকেন। তা হল একবার মঙ্গল সুতো বাঁধলে তা ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত হাত থেকে খোলেন না। কিন্তু শাস্ত্র বলছে, এই ডোর ২১ দিন অন্তর বদলে ফেলা উচিত।
কেন এই নির্দিষ্ট সময়সীমা?
এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ। আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন হাতে ডোর বাঁধা হয়, তখন সেটি একটি নির্দিষ্ট সংকল্প বা পুজোর শক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনও পবিত্র সুতোয় মন্ত্রের তেজ ধরে রাখার একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা থাকে। ২১ দিনের এই সময়কালকে একটি ‘মণ্ডল’ বা পূর্ণ চক্র হিসেবে দেখা হয়। মনে করা হয়, ২১ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর ওই সুতোর আধ্যাত্মিক শক্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে রক্ষাসূত্রটি তার আসল কার্যকারিতা হারায়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের(Astro Tips) নজর দিয়ে দেখলে, কবজিতে বাঁধা ডোর শরীরের শক্তির প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ২১ দিন পর ডোর পুরনো হয়ে গেলে তা নোংরা বা বিবর্ণ হতে শুরু করে। শাস্ত্র মতে, জীর্ণ বা মলিন ডোর ইতিবাচক শক্তির বদলে নেতিবাচকতাকে বেশি আকর্ষণ করে।
সপ্তাহের কোন দিন ডোর বদলাবেন
ডোর বদলানোর জন্য মঙ্গলবার বা শনিবার সবথেকে ভাল দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘদিন এই সুতো পড়ে থাকায় ক্ষতি হতে পারে।

