হিন্দু তান্ত্রিক সাধনায় দশমহাবিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলো দেবী মাতঙ্গী। তাঁকে দশমহাবিদ্যার নবম মহাবিদ্যা বলা হয়। অনেকেই আবার দেবী সরস্বতীর তান্ত্রিক রূপ হিসেবেও তাঁকে মানেন। জ্ঞান, শিল্পকলা, সংগীত এবং বাকশক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে তন্ত্রশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দেবী মাতঙ্গীর রূপও অত্যন্ত রহস্যময়। সাধারণত দেবী শ্যামবর্ণা বা গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়ে থাকেন। তাঁর কপালে থাকে অর্ধচন্দ্র, আর চার হাতে দেখা যায় পাশ, অঙ্কুশ, খড়্গ ও বীণা। পুরাণ মতে, তিনি মতঙ্গ মুনির কন্যা হিসেবেও পরিচিত। অসুর বিনাশের জন্যই তিনি এই বিশেষ রূপ ধারণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। (Hindu Devi)
তন্ত্রসাধকদের মতে, দেবী মাতঙ্গী শুধু জ্ঞানের দেবী নন, তিনি বশীকরণ শক্তি ও উচ্চশিক্ষারও অধিষ্ঠাত্রী। শিল্প, সংগীত ও বাকশক্তির ওপর তাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। তাই সাধকরা তাঁকে জ্ঞান ও শিল্পকলার এক অলৌকিক শক্তির প্রতীক হিসেবেই দেখেন।
দেবী মাতঙ্গীর আর একটি বিশেষ পরিচয় হল ‘উচ্ছিষ্ট মাতঙ্গিনী’ বা ‘চণ্ডালিনী’ রূপ। তন্ত্র মতে, তিনি এমন এক দেবী যিনি এঁটো বা উচ্ছিষ্ট বস্তু গ্রহণ করেন। এই রূপের মাধ্যমে অহংকার, ঘৃণা এবং সমাজের ভেদাভেদ দূর করার বার্তাই তুলে ধরা হয় বলে মনে করা হয়।
Bhairavi Devi: দশমহাবিদ্যার অন্যতম শক্তিরূপ ভৈরবী, জানুন দেবীর মহিমা
তবে মাতঙ্গী সাধনা সাধারণ গৃহীদের জন্য নয়। এটি অত্যন্ত উচ্চস্তরের তান্ত্রিক সাধনার অংশ। গুরু দীক্ষা ছাড়া এই সাধনা সম্পূর্ণ করা যায় না বলেই মত তান্ত্রিকদের। সাধকদের বিশ্বাস, দেবী মাতঙ্গীর কৃপায় অন্তর্দৃষ্টি, আত্মোপলব্ধি এবং গভীর জ্ঞান লাভ সম্ভব হয়। (Hindu Devi)
উল্লেখ্য, দেবীর এই মাতঙ্গী রূপ নিয়েই অভীক সরকারের জনপ্রিয় গল্প ‘ভোগ’। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় অতিথি মাধ্যমে এই গল্প নিয়ে একটি সিরিজও মুক্তি পেয়েছিল। এই গল্প দেবীর রুদ্র রূপের বর্ণনা রয়েছে।

