Site icon Hindustan News Point

এই কাঠ ছাড়া তৈরি হয় না জগন্নাথের রথ, জানুন পুরীর রথযাত্রার অজানা গল্প

Jagannath Rathyatra

আর কয়েকদিন বাদেই রথযাত্রা। পুরীতে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে। পুরীর রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন নানা আচার, নিয়ম এবং অবাক করা সব গল্প। বিশেষ করে জগন্নাথদেবের রথ তৈরির পদ্ধতি আজও অনেকের কাছে বিস্ময়ের বিষয়। কাঠ বাছাই থেকে শুরু করে রথ নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে মানা হয় চিরাচরিত বিধি।

রথযাত্রার আগে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার দিন ১০৮টি কলসিতে রাখা সুবাসিত জল দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এই মহাস্নানের পর নিয়ম অনুযায়ী তিন ভাই-বোনের ধূম জ্বর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এরপর টানা ১৫ দিন তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন। এই সময় রাজবৈদ্যের পাঁচন দিয়ে তাঁদের চিকিৎসা চলে। সুস্থ হওয়ার পরই শুরু হয় মাসির বাড়ির উদ্দেশে তাঁদের যাত্রার প্রস্তুতি।

তিনটি রথের মধ্যে সবচেয়ে বড় রথটি হল জগন্নাথদেবের। ৪৫ ফুট উঁচু এই রথের নাম ‘নন্দীঘোষ’, যা স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া বলে বিশ্বাস করা হয়। এই রথে থাকে ১৬ টি বিশালাকার চাকা। অন্য দুটি রথের নাম ‘তালধ্বজ’ এবং ‘দর্পদলন’ বা ‘পদ্মধ্বজ’। যুগের পর যুগ ধরে শাস্ত্রীয় বিধি মেনেই এই নামগুলি ব্যবহার হয়ে আসছে। (Jagannath Rathyatra)

এই তিনটি বিশাল রথ তৈরি করতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮৩২টি কাঠের টুকরো লাগে। এর জন্য প্রায় ৮৮৪টি গাছের ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। রথ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় এই বিপুল পরিমাণ কাঠ ওড়িশার অরণ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা রথযাত্রার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

তবে সব ধরনের কাঠ দিয়ে রথ তৈরি করা যায় না। শাস্ত্র অনুযায়ী শুধু ফসি, ধৌসা, হাঁসি এবং নিম গাছের কাঠই ব্যবহার করা হয়। বন দফতরের অনুমতি পাওয়ার পর পুরীর প্রধান পুরোহিত নিজে জঙ্গলে গিয়ে নির্দিষ্ট গাছ চিহ্নিত করেন। এরপর শাস্ত্র মেনে সেই গাছগুলির পূজা করা হয়। (Jagannath Rathyatra)

শবরদের নীলমাধব থেকে বিশ্বজনের জগন্নাথ, রথযাত্রার অন্তরালে এক অনন্য আখ্যান

রথ নির্মাণের শুরুতেও রয়েছে এক বিশেষ নিয়ম। সাধারণ কুঠার দিয়ে নয়, পুরীর রাজার ঐতিহ্যবাহী সোনার জল করা কুঠার ব্যবহার করেই প্রথম কাঠ কাটা হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে বংশানুক্রমিক প্রধান ছুতোর সেই কুঠার মহাপ্রভুর চরণে স্পর্শ করিয়ে রথ তৈরির প্রথম কাজ শুরু করেন।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় ও ভারী এই তিনটি রথ তৈরিতে একটি লোহার পেরেক বা স্ক্রুও ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ রথ দাঁড়িয়ে থাকে প্রাচীন ভারতীয় কাঠ-খোদাই প্রযুক্তির উপর। নিখুঁতভাবে কাঠের খিলান জোড়া দিয়েই তৈরি হয় এই বিশাল ও মজবুত রথের কাঠামো, যা আজও আধুনিক বিজ্ঞানকে বিস্মিত করে। (Jagannath Rathyatra)


Exit mobile version