শহরের ছোট ফ্ল্যাট বা ঘিঞ্জি এলাকায় জায়গার অভাব এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই নিত্য সমস্যা। তাই বাড়ির প্রতিটি ফাঁকা জায়গাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। এই কারণেই অনেক সময় সিঁড়ির নীচের খালি অংশে শৌচাগার তৈরি করা হয়। এতে জায়গার সঠিক ব্যবহার হলেও বাস্তুশাস্ত্রের মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার। কারণ, বাস্তুবিদদের দাবি, ভুলভাবে তৈরি করা শৌচাগার ঘরে নেতিবাচক বা অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব পরিবারের সুখ-শান্তি ও আর্থিক অবস্থার উপরও পড়তে পারে। (Vastu Tips)
তবে যাদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই সিঁড়ির নীচে শৌচাগার রয়েছে বা ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নিয়ম ঠিকভাবে মেনে চললেই এই ধরনের শৌচাগারের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সবচেয়ে আগে যে বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে, তা হল জল বেরোনোর ব্যবস্থা। সিঁড়ির নিচের শৌচাগারে কোনওভাবেই যেন জল জমে না থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সবসময় সচল ও নিখুঁত হওয়া প্রয়োজন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে তা পরিবারের সদস্যদের মানসিক অশান্তি, উদ্বেগ এবং আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং জল যাতে সহজে বেরিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। (Vastu Tips)
এ ছাড়া শৌচাগারের মেঝের উচ্চতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাস্তুবিদদের পরামর্শ, বাড়ির মূল মেঝের সঙ্গে সিঁড়ির নীচের শৌচাগারের মেঝের উচ্চতা যতটা সম্ভব সমান রাখা উচিত। যদি কোনও কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে সামান্য নিচু রাখা যেতে পারে। তবে মেঝের উচ্চতা যেন খুব বেশি কম বা বেশি না হয় এবং কোথাও অসমান না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
প্রবেশদ্বারের সামনে এই কয়েকটি জিনিস রাখলেই বাড়তে পারে সুখ-সমৃদ্ধি
পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও কোনওভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এই ধরনের শৌচাগার সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন পরিষ্কার করা সম্ভব না হলেও সপ্তাহে অন্তত দু’দিন পুরো শৌচাগার ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। বাস্তুশাস্ত্রের মতে, অপরিষ্কার বা নোংরা শৌচাগার বাস্তু দোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং তার নেতিবাচক প্রভাব পরিবারের সদস্যদের উপর পড়তে পারে।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এই নিয়মগুলি মেনে চললে একদিকে যেমন বাড়ির পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে, তেমনই সম্ভাব্য অশুভ প্রভাব এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। (Vastu Tips)

