বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির প্রতিটি জিনিসের অবস্থানের সঙ্গে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক অবস্থার একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই রান্নাঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ফ্রিজ কোথায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফ্রিজে খাবার, ফল, সবজি দীর্ঘ সময় ভালো থাকে। গরমের দিনে ঠান্ডা জল ও নরম পানীয় সংরক্ষণের জন্যও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তুবিদদের মতে, ফ্রিজ সঠিক দিক বা নির্দিষ্ট স্থানে রাখলে বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
বাস্তুশাস্ত্রে দিকনির্দেশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফ্রিজ রাখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত দিক হিসেবে ধরা হয় দক্ষিণ-পশ্চিম কোণকে। এই দিকে ফ্রিজ রাখলে বাড়িতে স্থিরতা আসে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো থাকে বলে মনে করা হয়। (Vastu Tips)
যদি কোনও কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ফ্রিজ রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে পশ্চিম দিককে ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব দিকেও ফ্রিজ রাখা যেতে পারে। কারণ, ফ্রিজ ঠান্ডার প্রতীক হলেও দক্ষিণ-পূর্ব দিক অগ্নির স্থান হওয়ায় সেখানে ফ্রিজ রাখলেও কোনও বাস্তুদোষ হয় না বলে মত বাস্তুবিদদের।
ঘরের চাবি ঠিক জায়গায় রাখছেন তো? বাস্তুশাস্ত্র বলে দিচ্ছে সঠিক নিয়ম
অন্যদিকে, বাস্তু অনুযায়ী বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে কখনও ফ্রিজ রাখা উচিত নয়। এই দিকটি জলের স্থান এবং অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। তাই সেখানে রেফ্রিজারেটরের মতো ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র রাখলে নেতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বাড়ির শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (Vastu Tips)
ফ্রিজের রং নিয়েও বাস্তুশাস্ত্রে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাদা, ক্রিম বা হালকা বাদামি রঙের ফ্রিজকে সবচেয়ে শুভ মনে করা হয়, কারণ এই রংগুলি শান্তি ও শীতলতার প্রতীক। বর্তমানে প্রচলিত ধূসর বা রুপালি (ধাতব) রঙের ফ্রিজও বাস্তুসম্মত বলে ধরা হয়। তবে লাল, গাঢ় কালো বা খুব উজ্জ্বল রঙের ফ্রিজ ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এগুলি রান্নাঘরের অগ্নি উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

