মন্দিরে পুজো দিতে গেলে অধিকাংশ ভক্তই একটি বিশেষ কাজ করে থাকেন। ঠাকুর দর্শনের পর অনেকেই কিছুক্ষণ মন্দিরের সিঁড়িতে হাত জোড় করে বসে থাকেন। আবার কেউ মন্দিরে প্রবেশের আগেই সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন। বহুদিন ধরে চলে আসা এই রীতির পিছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। মন্দিরের সিঁড়িতে বসার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে বিশেষ কিছু নিয়ম। জানেন কি সেই নিয়ম?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরের সিঁড়িতে বসা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তবে সঠিক নিয়ম না মেনে এই কাজ করলে অশুভ ফলও দেখা দিতে পারে বলেও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র মতে, একটি মন্দিরের সম্পূর্ণ গঠনকে ভগবানের শরীরের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরের চূড়া ঈশ্বরের মুখমণ্ডলের প্রতীক এবং মন্দিরের সিঁড়ি ভগবানের ‘চরণপাদুকা’ বা পদযুগলের প্রতীক।এই কারণেই বহু ভক্ত মন্দিরে প্রবেশের আগে সিঁড়ি স্পর্শ করে প্রণাম করেন। বিশ্বাস করা হয়, দেবতার চরণের কাছে বসে প্রার্থনা করলে সেই প্রার্থনা বা মনের আকুতি দ্রুত ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়। তাই বহু মানুষ পুজো বা দেবতার দর্শনের পর কিছুক্ষণ মন্দিরের সিঁড়িতে বসে ভগবানকে স্মরণ করেন। (Astrology Tips)
বৃহস্পতির কৃপায় বদলাবে এই ৪ রাশির ভাগ্য, জীবনে আসছে সুখের সময়
তবে ধর্মীয় মত অনুসারে, সিঁড়িতে বসার সময় মানুষের চিন্তা-ভাবনা এবং মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেই সময় আপনি কী ভাবছেন বা কী করছেন, তার উপরই নির্ভর করতে পারে শুভ কিংবা অশুভ ফল। তাই পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর সিঁড়িতে শান্তভাবে বসে চোখ বন্ধ করে ভগবানের নাম জপ করা বা ধ্যান করুন।
এইভাবে ঈশ্বরের স্মরণে কিছু সময় কাটালে মন শান্ত হয়, মানসিক অস্থিরতা দূর হয় এবং জীবনে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে। তাই মন্দিরে গিয়ে শুধু পুজো দিয়েই ফিরে না এসে, কিছুক্ষণ ভগবানের চরণে অর্থাৎ মন্দিরের সিঁড়িতে বসে ধ্যান বা প্রার্থনা করতে পারেন। (Astrology Tips)

