Site icon Hindustan News Point

AIIMS ভোপালে ভয়াবহ গাফিলতি! ভুল ইনজেকশনেই মৃত্যু ৩ বছরের ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর; অভিযুক্ত দুই নার্সের বিরুদ্ধে FIR

AIIMS Bhopal FIR

দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান AIIMS ভোপালে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে? এই প্রশ্নেই তোলপাড় চিকিৎসা মহল। (AIIMS Bhopal FIR) মধ্যপ্রদেশের ভোপালের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS Bhopal)-এ চিকিৎসাধীন তিন বছরের ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর গাফিলতির অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে, ভুলবশত নয়, বরং মারাত্মক অবহেলার জেরেই শিশুটি শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছিল বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত ইনজেকশন। ঘটনায় দুই নার্সের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। (AIIMS Bhopal FIR) তবে AIIMS-এর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি অভিযুক্ত দুই নার্স—মধুবালা শর্মা এবং অনুকা গুজরাতির বিরুদ্ধে FIR নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে যে শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

ভোপালের বাগসেওনিয়া থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৬ এবং ২৮৬ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। AIIMS কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

পুলিশের দাবি, সাগর জেলার বাসিন্দা ওই শিশু ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য AIIMS ভোপালে ভর্তি ছিল। (AIIMS Bhopal FIR) চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি ড্রিপের মাধ্যমে তাকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় হাসপাতালের এক নার্স ভুল করে এমন একটি সিরিঞ্জ ব্যবহার করেন, যাতে ফরমালিন বা ফরম্যালডিহাইড জাতীয় অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন – ঔপনিবেশিক ছাপ মুছতে ভারতীয় সেনার নতুন ড্রেস কোড, কী কী পরিবর্তন হলো?

(AIIMS Bhopal FIR) তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই বিষাক্ত ইনজেকশনটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল না মেনে খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, নার্স অনুকা গুজরাতি সেটি নজরদারি ছাড়া রেখে দেন। পরে নার্স মধুবালা শর্মা সেটিকেই রোগীর জন্য নির্ধারিত ওষুধ ভেবে শিশুর ড্রিপে প্রয়োগ করেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল, শিশুটির পরিবার নাকি নার্সকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিল। মৃত শিশুর বাবা সিদ্ধার্থ যাদবের অভিযোগ, সিরিঞ্জে ‘F’ চিহ্ন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছিল। তিনি নার্সকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নার্স নাকি সেই আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এখানে ডাক্তার আপনি, না আমি?”

পরিবারের দাবি, ইনজেকশন প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সে অচেতন হয়ে পড়ে। তাকে তড়িঘড়ি শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (PICU) নিয়ে যাওয়া হলেও এক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয়।

ভোপাল পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন-২) বিকাশ সেহওয়াল জানিয়েছেন, AIIMS-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে দুই নার্সের গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে। (AIIMS Bhopal FIR) তদন্তের স্বার্থে ড্রিপ বোতল ও সংশ্লিষ্ট নমুনা বাজেয়াপ্ত করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনা শুধু একটি চিকিৎসা ত্রুটির অভিযোগ নয়, বরং দেশের অন্যতম আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগী সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যেখানে কঠোর প্রোটোকল, একাধিক স্তরের যাচাই এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের উপস্থিতি থাকার কথা, সেখানে কীভাবে একটি বিষাক্ত রাসায়নিক রোগীর শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালগুলিতে ওষুধ ও রাসায়নিক সংরক্ষণ, লেবেলিং এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও প্রাণঘাতী হতে পারে। AIIMS ভোপালের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থাও ধাক্কা খেতে পারে।

বর্তমানে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আরও স্পষ্ট হবে। তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই পরিষ্কার—একটি সম্ভাবনাময় শিশুর জীবন শেষ হয়ে গেছে এমন এক ভুলে, যা কোনওভাবেই হওয়ার কথা ছিল না।

আরও পড়ুন – জল নিয়ে বচসা, তারপর খুন-অগ্নিসংযোগ; উত্তাল দেরাদুন


Exit mobile version