মাঝ আকাশেই মর্মান্তিক পরিনতি। জীবন বাঁচাতে গিয়ে অকালেই গেল সাত প্রাণ। উড়ানের ২৩ মিনিটেই ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান। দুর্ঘটনায় বিমান চালক, কর্মী-সহ সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি বিমানবন্দর থেকে দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন বছর ৪১-এর সঞ্জয় কুমার। চান্দোওয়ার তাঁর হোটেলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে দারুণভাবে দগ্ধ হন সঞ্জয়। দেহের প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। এর জন্য চিকিৎসা ও প্রাইভেট বিমান ভাড়ার জন্য ৮ লক্ষ টাকা ঋণ করেছিলেন। বহু কষ্টে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করে ওই অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল। সঞ্জয়ের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও তাঁর এক আত্মীয়। আর ছিলেন একজন চিকিৎসক, এক প্যারামেডিক, পরিচারক। বিমানে পাইলট নিয়ে মোট ৭ জন ছিলেন। বিমানে থাকা চিকিৎসকের পরিবারও তাঁর পড়াশোনার খরচ বহন করার জন্য কৃষিজমি বিক্রি করে দেয়। (Air Ambulance Crash)
ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের চাতরার সিমারিয়ার কাসারিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি। মঙ্গলবার সকালে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়ে প্রশাসন মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, বিমানের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটল কি না, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।
সূত্রের খবর, উড়ানের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়ে বিমানটি। পাইলট আকাশপথ বদলের অনুমতি চেয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু রাত ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ, বারাণসী থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করার সময় হঠাৎই রাডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি। তারপর আর কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। অবশেষে চাতরার জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ধ্বংসাবশেষ।ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। (Air Ambulance Crash)
ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, খবর পাওয়ামাত্র প্রশাসনকে সতর্ক করা হয় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তবে তদন্তের ফল যা-ই হোক, জীবন বাঁচাতে ছুটে চলা একটি উড়ান এ ভাবে থেমে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে গোটা অঞ্চলে।











