বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর কাকা শরদ পাওয়ার জানিয়েছেন, চক্রান্ত নয়, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অজিত পাওয়ারের। তাঁর বিমান ল্যান্ড করার সময়ে আগুনে ঝলসে গিয়ে কয়েক টুকরো হয়ে যায়। যার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়— ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাঁর দেহ কীভাবে শনাক্ত করা হল? দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দেহগুলি চেনা দায় হয়ে গিয়েছিল। তবুও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত কিছু জিনিসের সূত্র ধরেই নিশ্চিত হওয়া যায় তাঁর পরিচয়।
২৮ জানুয়ারি সকালে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ বিমানবন্দর থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর চার্টার্ড বিমানটি। অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। এই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার ছাড়াও প্রাণ হারান পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, কো–পাইলট ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বিদিপ জাদব এবং বিমানসেবিকা পিঙ্কি মালি।
‘Oh S***!’ অজিত পাওয়ারের বিমান ভেঙে পড়ার আগে ভেসে এসেছিল দুটি শব্দ
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহগুলি উদ্ধার করে। কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণে সরাসরি চেহারা দেখে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশ ব্যক্তিগত সামগ্রীর উপর নির্ভর করে পরিচয় নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, অজিত পাওয়ারকে তাঁর নিয়মিত পরা হাতঘড়ির মাধ্যমেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। ওই ঘড়িটি পুলিশকর্মীদের পরিচিত ছিল এবং দেহের অবস্থানও তাঁর নির্দিষ্ট আসনের সঙ্গে মিলেছিল।
যদিও প্রাথমিকভাবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়ে, তবে হাতঘড়ি এবং আসন–সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় সেটিই অজিত পাওয়ারের দেহ। এক কথায় বলতে গেলে অজিত পাওয়ারের দল NCP-র প্রতীক ছিল ঘড়ি। সেই ঘড়ি ধরেই চেনা গেল তাঁকে। পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।

