মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হল বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান মাঠে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শরদ পাওয়ার, নীতীন গড়কড়ি-সহ একাধিক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শোকের আবহে গোটা বারামতী কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বারামতীর বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের ককপিট থেকে ভেসে এসেছিল মাত্র দু’টি শব্দ—“ওহ শিট”। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট বা ফার্স্ট অফিসারের মধ্যে কেউ এই শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, যা হঠাৎ কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ–র এক আধিকারিক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আগুন আর কালো ধোঁয়া, কী হয়েছিল অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার পর? মুখ খুললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় চাটার্ড লিয়ারজেট–৪৫ বিমানটি ভেঙে পড়ে। এতে অজিত পওয়ার ছাড়াও পাইলট সুমিত কাপুর, ফার্স্ট অফিসার শম্ভাবী পাঠক এবং আরও দু’জন সহযোগীর মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অবতরণের আগেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং রানওয়ে ছোঁয়ার আগেই রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়।
ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ব্ল্যাক বক্সে থাকা ককপিটের কথোপকথন ও ডেটা বিশ্লেষণ করেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল এবং দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুও জানিয়েছেন, প্রথমবার অবতরণের সময় পাইলট রানওয়ে দেখতে পাননি। দ্বিতীয়বার ইতিবাচক উত্তর দেওয়ার পরই অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং সেই চেষ্টাতেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

