Site icon Hindustan News Point

একই পাড়ার থাকেন পাঁচ অভিযুক্ত! রামমন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি তদন্তে নতুন মোড়

Ayodhya Ram Mandir Case

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী তছরুপের ঘটনায় নতুন মোড়। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এবার মামলাটি পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টেও। আর সেখানেই এবার আবেদন করা হয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের। আবেদনকারীদের দাবি, তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব ডিজিটাল প্রমাণ দ্রুত সংরক্ষণ করা হোক, যাতে কোনও তথ্য প্রমাণ লোপাট বা নষ্ট না হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, কম্পিউটারের নথি, ডিজিটাল লেনদেনের রেকর্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য অবিলম্বে নিরাপদে সংরক্ষণ করা জরুরি। আবেদনকারীর আশঙ্কা, দেরি হলে এই তথ্য মুছে যেতে পারে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনুদানের টাকার ফরেনসিক অডিট করারও আবেদন জানানো হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনই এই মামলার জরুরি শুনানিতে রাজি হয়নি। আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই মামলার শুনানি হবে। (Ayodhya Ram Mandir Case)

এদিকে অযোধ্যা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজন একই এলাকায় খুব কাছাকাছি থাকেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আবার আত্মীয়ও। তাই এই ঘটনা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া আটজন অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোট সম্পত্তি, আয় এবং খরচের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের যা আয় তার তুলনায় তাদের সম্পত্তির পরিমাণ বিপুল, যার ফলে সন্দেহ আরও বাড়ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশলপুরী কলোনিতে লাভ কুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্ল এবং অনুকল্প মিশ্রের বাড়ি ১০০ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যেই। অবিনাশের বাড়ি লাভ কুশের বাড়ির ঠিক পিছনে। আর অনুকল্পের বাড়িটিও একই এলাকায়, মাত্র ২০০ মিটার দূরে। অন্যদিকে, মনীশ যাদব ও টিন্নু যাদব পাশাপাশি বাড়িতে থাকেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘনিষ্ঠ পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই গোটা ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

এই সূত্র ধরেই রবিবার একসঙ্গে আট অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায় অযোধ্যা পুলিশ। স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে লাভ কুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্ল, রামাশঙ্কর যাদব-সহ সকলের বাড়িতে তল্লাশি হয়। এর আগে আদালত আটজনকেই ২৯ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল। সোমবার তাঁদের আবার আদালতে তোলা হলে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে বলেই খবর। (Ayodhya Ram Mandir Case)

এদিকে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার কয়েক দিন আগেই রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট অনুদানের টাকা তছরুপের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। জানা গিয়েছে, ৫ জুন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের নির্দেশে ট্রাস্টের কয়েকজন প্রতিনিধি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লের বাড়িতে যান। সেখানে তল্লাশির সময় নগদ টাকা উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। তখনই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল।

কিন্তু এত কিছু হওয়ার পরও সেই সময় পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের করা হয়নি বলে দাবি সূত্রের। তাঁদের অভিযোগ, ৫ জুনের ওই তল্লাশি আনুষ্ঠানিক এফআইআরের ভিত্তিতে নয়, বরং আনঅফিশিয়ালি করা হয়েছিল। পরে ৭ জুন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা সামনে আসার পর ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের আবেদনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে।

করাচির হামলার জবাব? মধ্যরাতে আফগানিস্তানে বিমান হামলা, হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দাবি করেন, রামমন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি টাকার হিসাব মিলছে না। তিনি এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপও চান। (Ayodhya Ram Mandir Case)

এর পাল্টা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমারের অভিযোগ, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা পবন পাণ্ডের কথায়, এই ঘটনার জেরে শুধু অযোধ্যা নয়, গোটা দেশেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় ঘটনার খবর কেন এত দেরিতে সামনে এলো সে বিষয়েও খতিয়ে দেখতে হবে। (Ayodhya Ram Mandir Case)


Exit mobile version