আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দেশে সারা দিনের জন্য ‘ভারত বনধ’-এর ঘোষণা করা হয়েছে। এই সাধারণ ধর্মঘট AITUC, SEWA র মতো ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং একাধিক কৃষক সংগঠন মিলে সরকারের শ্রম নীতি, নতুন শ্রম কোড এবং কিছু বাণিজ্য-চুক্তির বিরুদ্ধে ডাক দিয়েছে। এতে বড় সংখ্যক শ্রমিক ও উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অংশে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, পরিবহন, সরকারি অফিস এবং বাজারে সংস্করণ অনুযায়ী ক্ষুদ্র থেকে বড় ধরনের ব্যাহত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাঙ্কগুলোর পরিষেবা, কিছু সরকারি বাস ও লোকাল পরিবহন এবং সমস্ত সরকারি অফিস কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। Bharat Bandh
ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা বেশি, কারণ, ব্যাঙ্ক কর্মচারী ইউনিয়নগুলো এই ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে। যদিও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) কোনও সরকারি ছুটি ঘোষণা করেনি, তবুও অনেক শাখায় নগদ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারিং ও কাউন্টার সার্ভিসে বিলম্ব বা বিরতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলো গ্রাহকদের জানিয়েছে অনলাইন পরিষেবা ব্যবহার করতে।
স্কুল ও কলেজগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিছু রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে, আবার অন্য জায়গায় নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকতে পারে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবৃতির দিকে পড়ুয়া ও কর্মীদের নজর দিতে বলা হয়েছে।
পরিবহন ক্ষেত্রেও বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু রাজ্যে সরকারি বাস পরিষেবা এবং মালপত্র পরিবহন ব্যাহত হতে পারে, এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় হয়রানির শিকার হতে পারেন। যদিও জরুরি পরিষেবা যেমন হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান, এবং অপরিহার্য সরবরাহ-সম্পর্কিত কাজগুলি চালু রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর, রেল পরিষেবা এবং ব্যক্তিগত যানবাহন সাধারণভাবে কাজ করবে, যদিও রাস্তায় প্রতিবাদ-সমর্থন কর্মসূচী সাময়িকভাবে যানজটের সৃষ্টি করতে পারে। Bharat Bandh
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে সাধারণ মানুষকে আগাম প্রস্তুতি নিতে এবং খবরের দিকে নজর রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি ও তার প্রভাব কোথায় কতটা পড়বে তা তো সময় বলবে, তবে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই শ্রেয়।

