বিহারের সাংসদ (Bihar Papu Jadav) রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব এখন খবরের শিরোনামে। রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কিত ও কুরুচিকর মন্তব্য করে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়লেন বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন, যিনি পাপ্পু যাদব নামে পরিচিত। সম্প্রতি লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী নিয়ে আলোচনার সময় তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ মহিলা কোনও পুরুষ রাজনীতিবিদের ঘরে সময় না কাটালে রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারেন না। তাঁর এই মন্তব্যের পরই তোলপাড় হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল। মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর কথা বলায় বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু তাতেও দমবার পাত্র নন তিনি। পাল্টা দাবি করেছেন, দেশের সিংহভাগ রাজনীতিবিদই পর্ন দেখেন।
পাপ্পু বলেন, “আমেরিকা থেকে ভারত—সব জায়গাতেই নেতারাই গার্হস্থ্য হিংসা এবং মহিলাদের উপর কুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য দায়ী। রাজনীতিতে আসা ৯০ শতাংশ মহিলা কোনও রাজনীতিবিদের ঘরে না ঢুকে টিকে থাকতে পারেন না। এটা প্রতিদিন ঘটছে এবং নেতাদের সিসিটিভি ফুটেজ প্রায়ই সামনে আসে। মহিলাদের শোষণ এখন এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।”
সাংসদ আরও বলেন, ‘‘আমি তো সগর্বে বলছি, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রাজনীতিবিদ পর্ন দেখেন। সবার ফোন পরীক্ষা করা হোক। আমার ফোনে আপত্তিকর কিছু থাকলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিন।’’ কমিশনকে আক্রমণ করে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘যাঁরা নোটিস পাঠাচ্ছেন, তাঁদের নিজেদের স্বচ্ছতা কতটা? কাঁচের ঘরে বসে অন্যের দিকে ঢিল ছোড়া বন্ধ হোক।’’
পাপ্পুর দাবি, তিনি আসলে মহিলাদের হয়েই লড়াই করছেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, ‘‘বহু নেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলা রয়েছে। এঁরাই মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেন আবার বড় বড় কথা বলেন। এই পুরুষতন্ত্রই মহিলাদের সম্মানের পথে বাধা।’’
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সমর্থনেই পূর্ণিয়া থেকে জিতেছিলেন পাপ্পু। তাই তাঁর এই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা (Bihar Papu Jadav)। তিনি বলেন, এই মন্তব্য বিরোধী শিবিরের ‘নারীবিরোধী মানসিকতা’র পরিচয় দেয়। তাঁর কথায়, “এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়, নারীবিদ্বেষী এবং অশালীন মন্তব্য।”
বিজেপি নেত্রী চারু প্রজ্ঞা এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই মন্তব্য পাপ্পু যাদবের মানসিকতার প্রতিফলন। তাঁর মতে, “এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে বারবার সাংসদ নির্বাচিত হন, সেটাই দুঃখজনক।” তিনি পাপ্পুকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।

