দেরিতে ট্রেন ছাড়ায় রণক্ষেত্রে বিহারের পাটলিপুত্র স্টেশন। ভাঙচুল, পাথর ছোড়ে পরীক্ষার্থীরা। রবিবার ভোরে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। বেশ কয়েকটি ট্রেনে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে জখম হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী(Bihar Patliputra)।
বিহার পুলিশ নিয়োগের পরীক্ষা ছিল আজ। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর জন্য ভোরে ট্রেন ধরার তাগিদে আগের দিন রাতেই স্টেশনে চলে আসেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি। রেল লাইনে নেমে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অনেকেই স্পেশাল ট্রেনের দাবি জানান। এই নিয়েই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তাদের দেখেই পাথর ছুড়তে থাকেন উত্তেজিত পরীক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকটি ট্রেন ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ। পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। রেললাইনের উপর বসে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। অবরোধ তুলতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় স্টেশন চত্বর। পরীক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের জেরে আটকে পড়ে দূরপাল্লার বেশ কয়েকটি ট্রেন। সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা(Bihar Patliputra)।
শেষে পরীক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয় রেল। একটি বিশেষ ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু তারপরেও শান্ত করা যায়নি উত্তেজিত জনতাকে। রেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বারবার ইমার্জেন্সি চেইন টেনে ট্রেন আটকে দেয় বেশ কিছুজন। লাঠিচার্জ করে পরীক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। পাটনার জেলাশাসকের কথায়, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ট্রেনগুলিও গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।’ এই বিক্ষোভের পেছনে পরীক্ষার্থীরা ছাড়া আর কারও হাত আছে কি না তদন্ত করে শুরু করেছে পুলিশ। স্টেশন চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

