কাজ করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো পশ্চিমবঙ্গের এক আদিবাসী মহিলাকে। বীরভূম জেলার বাসিন্দা ৩৯ বছরের ভাদু মাণ্ডিকে (Bhadu Mandi) হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের একটি আবাসন থেকে উদ্ধার করল প্রশাসন। অভিযোগ, তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে জোর করে গৃহকর্মীর কাজ করানো হচ্ছিল, মারধর করা হতো এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুযোগও দেওয়া হতো না। (Birbhum Woman Rescued)
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছরেরও বেশি আগে ভাদুকে দিল্লি-গুরগাঁও এলাকায় গৃহকর্মীর কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় তাঁর হাতে অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। পরে তাঁকে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৯১-এর DLF গার্ডেন সিটির একটি ফ্ল্যাটে কাজে রাখা হয়। ভাদুর দিদি লক্ষ্মী টুডুর দাবি, প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো তাঁকে। সামান্য ভুল হলেই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি বাইরে বেরোনো বা পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলারও অনুমতি ছিল না। (Birbhum Woman Rescued)
অভিযোগ, ফ্ল্যাটে আধুনিক স্মার্ট লক ব্যবস্থা থাকায় মালিকরা বাইরে গেলে ভাদুকে ঘরের ভিতরেই আটকে রেখে যেতেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কার্যত বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসে আকস্মিকভাবে। ফ্ল্যাটে মেরামতির কাজে আসা এক টেকনিশিয়ানের ফোন ব্যবহার করে কোনওভাবে নিজের দিদিকে ফোন করতে সক্ষম হন ভাদু। সেই ফোনেই তিনি নিজের দুর্দশার কথা জানান। (Birbhum Woman Rescued)
এরপর লক্ষ্মী টুডু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বারস্থ হন। গত ৪ জুন বীরভূমের ইলামবাজার থানায় বন্ডেড লেবার সিস্টেম (Abolition) অ্যাক্ট, ১৯৭৬ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে ‘নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ (NOSKK) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ ও গুরগাঁও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। (Birbhum Woman Rescued)
তদন্তের পর শ্রম দফতর ঘটনাটিকে বন্ডেড লেবারের মামলা হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর গুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়। লক্ষ্মী নিজেও গুরগাঁওয়ে পৌঁছন, পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল দিল্লি যায়। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, গুরগাঁও পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে শুক্রবার ভাদুকে উদ্ধার করা হয়। (Birbhum Woman Rescued)
উদ্ধারের পর ভাদু অভিযোগ করেন, নিয়মিত মারধরের ফলে তাঁর ডান হাত প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছে এবং ডান কানে শোনার ক্ষমতাও অনেকটাই কমে গেছে। উদ্ধার হওয়ার দিন সকালেও তাঁকে মারধর করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন :- দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ! দিল্লির বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ৩

