এই প্রথম চালু হয়েছে ভারতের ডিজিটাল জনগণনা। এবার থেকে নিজেরাই পরিবারের সদস্যদের তথ্য সরকারকে জানাতে পারবেন। ভারতে সেনসান ২০২৭ এ এই নতুন ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে প্রথম পর্বের কাজ শুরু হয়েছে। এই নতুন জনগণনার প্রক্রিয়ায় থাকছে অনলাইন ‘সেলফ-এনুমারেশন’ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারছেন। এই নতুন ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাড়াও মিলেছে।
শুক্রবার , রেজিস্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) এর তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বেই ৫.৭২ লক্ষের বেশি পরিবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজেদের তথ্য প্রদান করেছে। (Census 2027)
ভারতে শেষ বার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রথা অনুসারে ২০২১ সালে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেসময় গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভারতেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্থগিত রাখা হয় আদমসুমারির কাজ। কাজেই এতদিন পরে স্বাভাবিকভাবেই দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। তবে এবার জনগণনার কাজটা কিছুটা সহজ। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘সেলফ-এনুমারেশন’ চালু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টাল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাড়ির বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিচ্ছেন। এর ফলে জনগণনার প্রাথমিক কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
এই জনগণনা প্রক্রিয়া দুই ধাপে হবে। প্রথম ধাপে বাড়িঘর এবং পরিবারের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে। এই পর্যায়েই নাগরিকদের অনলাইনে নিজে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে যারা এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন না তাদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যারা নিজেরা তথ্য জমা দেবেন না, তাদের বাড়িতে পরে গণনাকর্মীরা গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। (Census 2027)
Lucknow Super Giants: KKR-কে হারিয়ে স্বস্তি পেলেও বড় ধাক্কা এল LSG শিবিরে, ছিটকে গেলেন এই তারকা
একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ডিজিটাল পদ্ধতির পাশাপাশি প্রচলিত ব্যবস্থাও চালু থাকবে। জনগণনা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন এবং প্রয়োজন হলে নতুন তথ্য যুক্ত করবেন।তবে নতুন এই ডিজিটাল উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বিশাল আকারের জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। কর্তৃপক্ষের মতে, জনগণনা থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাই নাগরিকদের এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল জনগণনার প্রথম ধাপেই লক্ষাধিক পরিবারের অংশগ্রহণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এবং আগামী দিনে জনগণনা প্রক্রিয়ায় এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। (Census 2027)

