পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাগামছাড়া হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের উপর এক্সাইজ় ডিউটি লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে (Excise Duty on Petrol)। ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমে দাঁড়াল ৩ টাকা, আর ডিজেলের উপর শুল্ক কার্যত শূন্যে নেমে এল।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে এবং তারা প্রতি লিটার পেট্রল-ডিজেলে বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে।
১৪,৫৩৫ কোটি টাকায় আদানির হাতে গেল Jaypee Associates
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক হ্রাস মূলত তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি সামাল দিতেই করা হয়েছে। কারণ এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে তেল কিনেও সংস্থাগুলিকে পুরনো দামে বিক্রি করতে হচ্ছিল। ফলে এবার শুল্ক কমার বড় অংশের সুবিধা সংস্থাগুলিই পেতে পারে।
এদিকে কেন্দ্র অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের উপর নতুন করে লিটার প্রতি ৫০ টাকা শুল্ক বসিয়েছে এবং জ্বালানি রপ্তানিতেও কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলিকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই পদক্ষেপে তেল সংস্থাগুলি কিছুটা স্বস্তি পেলেও সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রল-ডিজেলের খুচরো দামে তেমন স্বস্তি আসবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

