[ছবি:এক্স]
মুম্বইয়ের চেম্বুরে (School Bus Accident) স্কুলবাসের উপর আচমকা গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১১ বছরের ছাত্র বিহান শ্রীবাস্তব। পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছোট্ট বিহানের মৃত্যুর পর সামনে এসেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য—ছেলের ক্রিকেট ব্যাট বুকে জড়িয়ে এখনও বসে রয়েছেন তাঁর মা। যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে প্রতিদিন স্কুল শেষে ক্রিকেট খেলতে যাওয়া ছেলে আর কোনওদিন ফিরবে না।
মঙ্গলবার মুম্বইয়ের চেম্বুর এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক (School Bus Accident) স্কুলবাস দুর্ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি বড় গাছ আচমকাই ভেঙে পড়ে একটি স্কুলবাসের উপর। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১১ বছরের ছাত্র বিহান শ্রীবাস্তব। আহত হয় আরও চার পড়ুয়া। আর এই ঘটনার পর যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তা কার্যত চোখে জল এনে দিয়েছে বহু মানুষের।
💔 A mother's grief beyond words.
— Core Media (@CoreMediaReport) June 30, 2026
Heartbreaking visuals from the Chembur school bus tragedy in Mumbai show a grieving mother holding the cricket bat of her son who lost his life in the accident.
Our thoughts are with the family during this unimaginable loss.#Mumbai #Chembur… pic.twitter.com/qG8isgwCi8
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিহানের মা জুহি শ্রীবাস্তব ছেলের ক্রিকেট ব্যাট শক্ত করে বুকে আঁকড়ে ধরে বসে রয়েছেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের কথায়, তিনি এখনও বারবার বলছেন, “বিহানকে তো ক্রিকেট খেলতে যেতে হবে”। যেন এখনও তিনি মেনে নিতে পারছেন না যে তাঁর একমাত্র সন্তানের স্বপ্ন ও জীবন, দুটোই মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিহান বড় হয়ে পেশাদার ক্রিকেটার হতে চেয়েছিল। প্রতিবেশী ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজি মালহোত্রা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিহান অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ ছেলে ছিল। প্রায়ই সে তাঁদের বাড়িতে এসে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করত এবং বলত, একদিন বড় ক্রিকেটার হবে। রাজি বলেন, “বিহান ছিল ওর মায়ের পুরো পৃথিবী। ছেলেটি বাড়ির বাইরে থাকলে জুহি প্রায়ই ভিডিও কল করে তার খোঁজ নিতেন। আজও তিনি ছেলের ক্রিকেট ব্যাট ধরে বসে আছেন, কারণ তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে বিহান আর ফিরবে না।”
(School Bus Accident) বিহানের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দর্শিকা মেহতা জানিয়েছেন, বিহান অত্যন্ত প্রাণবন্ত, মেধাবী এবং খেলাধুলায় আগ্রহী ছাত্র ছিল। স্কুলের বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমেও সে নিয়মিত অংশ নিত। তাঁর কথায়, “এমন একটা দুর্ঘটনায় বিহানকে হারাতে হবে, তা কখনও কল্পনাও করিনি।”
VIDEO | Mumbai: 11-year-old student dies after tree falls on school bus in Mumbai, says official. pic.twitter.com/2lYmK3CNWg
— Press Trust of India (@PTI_News) June 30, 2026
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, (School Bus Accident) দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসটিতে মোট ১৪ জন পড়ুয়া ছিল। পথে দু’জন নেমে যাওয়ার পর বাসটি চেম্বুরের রোড নম্বর ১১-এর কাছে হেরিটেজ প্রাইড ভবনের সামনে আর এক ছাত্রকে নামানোর জন্য থামে। ঠিক সেই সময় রাস্তার ধারের একটি বড় গাছ আচমকা ভেঙে বাসটির উপর পড়ে।
গাছের বিশাল ডাল বাসের মাঝখানে আছড়ে পড়ায় ভিতরে থাকা পড়ুয়ারা আটকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা, উদ্ধারকারী দল এবং বাসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মহেন্দ্র পাটিল জানান, আতঙ্কিত শিশুদের প্রথমে শান্ত করা হয়, তারপর বাসের কাচ ভেঙে একে একে তাদের উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত চার পড়ুয়ার মধ্যে দু’জনের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। বাকি দু’জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
(School Bus Accident) ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে। তিনি জানান, গাছটি কেন ভেঙে পড়ল এবং এর পিছনে কোনও গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় সাম্প্রতিক রাস্তা কংক্রিটকরণের কাজ গাছের শিকড় বা স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলেছিল কি না, তাও তদন্তে দেখা হবে। তদন্তে কোনও ধরনের অবহেলার প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল এক শিশুর জীবন, ভেঙে দিল একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন। প্রতিদিন স্কুল শেষে ক্রিকেট ব্যাট হাতে মাঠে ছুটে যাওয়া বিহান শ্রীবাস্তব আর কোনওদিন ফিরবে না। তবে ছেলের সেই ব্যাট বুকে জড়িয়ে বসে থাকা মায়ের নিঃশব্দ শোক মনে করিয়ে দিচ্ছে—একটি দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অপূর্ণ স্বপ্ন, অগণিত অশ্রু আর এক পরিবারের আজীবনের শূন্যতা।
কাশ্মীরের বাজারে মিলছে না মটন, চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা

