ছত্তিসগড়ের কাঁকেড় জেলায় মাওবাদীদের পেতে রাখা আইইডি নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হলেন জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি)-এর তিন জওয়ান (Chhattisgarh IED Blast)। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও এক জওয়ান। শনিবার কাঁকেড়-নারায়ণপুর সীমান্ত সংলগ্ন ছোটেবেঠিয়া থানার জঙ্গল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটেবেঠিয়া থানার অধীনে একটি ডিআরজি দল ওই এলাকায় ডি-মাইনিং, সার্চ অপারেশন এবং এলাকা দখল অভিযান চালাচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্য এবং আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাবাহিনী ওই জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করে। সেই সময়ে একটি আইইডি চিহ্নিত করেন জওয়ানরা। সেটি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলাকালীন আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে।
হঠাৎ ফোনে তীব্র অ্যালার্ম! দেশজুড়ে কেন বেজে উঠল ‘Extremely Severe Alert’?: Chhattisgarh IED Blast: ছত্তিসগড়ে IED বিস্ফোরণে নিহত ৩ জওয়ান, জখম আরও ১(Chhattisgarh IED Blast) বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন চার জওয়ান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ডিআরজি ইন্সপেক্টর সুখরাম ভাট্টি, কনস্টেবল কৃষ্ণ কোমরা এবং কনস্টেবল সঞ্জয় গড়পালের। আহত কনস্টেবল পরমানন্দ কোমরাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বস্তার রেঞ্জের আইজি পি. সুন্দররাজ জানান, গত কয়েক মাসে কাঁকেড়-সহ বস্তার অঞ্চলের সাতটি জেলায় মাওবাদীদের পেতে রাখা শতাধিক আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছিল। তবে শনিবারের ঘটনাকে তিনি “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা” বলে বর্ণনা করেছেন।
পুলিশের দাবি, বিস্ফোরকটি বহু আগেই মাওবাদীরা পুঁতে রেখেছিল। সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রযুক্তিগত কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। (Chhattisgarh IED Blast) ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তাবাহিনী এবং জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৩০ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, দেশ কার্যত সশস্ত্র মাওবাদমুক্ত হয়েছে। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, বস্তার অঞ্চলে “রেড টেরর”-এর প্রভাব প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং উন্নয়নের নতুন পথ খুলেছে। সেই ঘোষণার পর এটাই ছত্তিসগড়ে মাওবাদী-সংক্রান্ত প্রথম বড় বিস্ফোরণের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

