দিল্লিতে অধ্যাপিকা খুনের কিনারা (Delhi Professor Murder Case)। তদন্ত এগোতেই একে একে খুলছে রহস্যের গিঁট। মাত্র ৩ দিনের মাথায় এই হত্যা মামলার কিনারা করলেন তদন্তকারী অফিসাররা। বাংলা থেকে গ্রেফতার করা হল এক দম্পতিকে। সূত্রের খবর, খুনের দিন প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে অধ্যাপিকার বাড়িতে গিয়েছিলেন এই দম্পতি।
গত বুধবার দিল্লির ‘বসুন্ধরা এনক্লেভ’–এর ফ্ল্যাট থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তারপরেই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। ফ্ল্যাটের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সেই সিসিটিভি খতিয়ে দেখে ১২ জনের একটি তালিকা তৈরি করেন। সেই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন, এই দম্পতি। মাস্ক পরা অবস্থায় এই দম্পতিতে ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায়। দেবস্মিতা নিজেই দরজা খুলে দেন। ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাট থেকে বেড়িয়েও যেতে দেখা যায় তাঁদের। এরপরেই তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। সেই দম্পতির খোঁজে এরাজ্যে আসেন তদন্তকারীরা। বর্ধমান থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সম্পত্তিগত বিবাদের কারণেরই এই খুন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা (Delhi Professor Murder Case)।
সূত্রের খবর, সকলের চোখে ধুলো দিতে হত্যাকারীরা প্রায় ৩০ মিনিট পর পোশাক বদলে ফ্ল্যাটের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। ফ্ল্যাটের নিচে থেকেই একটি ট্যাক্সি ধরে সেখান থেকে চলে যান ওই দম্পতি। ওই ট্যাক্সি চালককে আটক করেছে পুলিশ। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের বর্ধমানে একটি নিজস্ব রয়েছে। সেই বাড়ি নিয়ে এই দম্পতিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। এই দম্পতি ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। অধ্যাপিকা না থাকায় সেই বাড়িটি দখলের পরিকল্পনা করেছিল। সেই পরিকল্পনা বুঝতে পেরে অধ্যাপিকা বারবার তাঁদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তারপরই অধ্যাপিকাকে খুন করার পরিকল্পনা করে এই দম্পতি।
খুনের কিনারা করতে পুলিশের ৭টি দল গোটা রাজ্যজুড়ে অভিযান চালায়। অবশেষে হত্যাকারীদের বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

