Site icon Hindustan News Point

Crime: ৯ বছরের প্রেম, বিয়ের ২ মাসের মাথায় স্ত্রীর হাতে খুন স্বামী!


স্কুল জীবন থেকেই একে অন্যের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক। দীর্ঘ নয় বছর প্রেমের সম্পর্কের পর অবশেষ গত বছর বিয়েও করেন তাঁরা। কিন্ত দাম্পত্য জীবনের মেয়াদ টিকলো মাত্র দু’মাস। গত ২৬ জানুয়ারি ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় যুবকের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে। প্রথমে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও ময়নাতদন্তে ধরা পড়ে অন্য তথ্য। যুবকের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর কেউ না, স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলেই খুন করেছেন বলে অভিযোগ।

মৃতের নাম জিতেন্দ্র কুমার যাদব (৩৩)। জিতেন্দ্র স্ত্রী জ্যোতির সঙ্গে ইজ্জতনগর থানা এলাকার গিরিজা শঙ্কর কলোনির একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই ভাড়াবাড়ি থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জিতেন্দ্রকে। প্রথমে প্রতিবেশীদের জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশও প্রাথমিকভাবে সেই ধারণাই করে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট হয় মৃত্যুর কারণ। আত্মহত্যা নয়, খুন করা হয়েছে জিতেন্দ্রকে। শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এরপরই তদন্তের দিক বদলে যায়। পুলিশ জানায়, জিতেন্দ্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তাঁর স্ত্রী জ্যোতি।

পুলিশ সূত্রে খবর, জিতেন্দ্র ও জ্যোতির পরিচয় ছাত্রজীবন থেকেই। প্রায় নয় বছরের সম্পর্কের পর গত ২৫ নভেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় তাঁদের। বিয়ের পর তাঁরা বরেলির ইজ্জতনগর এলাকার ভাড়াবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। মূলত আর্থিক বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, জিতেন্দ্র স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলেছিলেন এবং অনলাইন জুয়ায় সেই টাকা হারান। এই ঘটনা থেকেই দাম্পত্য কলহ চরম আকার নেয়।

২৬ জানুয়ারি ওই টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই দু’জনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। ঝগড়া হাতাহাতিতে পরিণত হলে জ্যোতি তাঁর বাবা-মা ও ভাইকে ফোন করে ভাড়া বাড়িতে ডেকে নেন।

জ্যোতির বাবা কালিচরণ, মা চামেলি ও ভাই দীপক বাড়িতে এসে জিতেন্দ্রের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ঝগড়া পৌঁছয় চরমে। তাঁরা জিতেন্দ্রর হাত-পা চেপে ধরে রাখেন এবং জ্যোতি তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর দেহটি একটি মাফলার দিয়ে ভেন্টিলেটরের গ্রিলে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খুনটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চলে। প্রতিবেশীদের জানানো হয়, জিতেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনও অসঙ্গতি নজরে না এলেও মৃতের ভাই অজয় কুমার সন্দেহ প্রকাশ করে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়, জিতেন্দ্রের মৃত্যু শ্বাসরোধের ফলে হয়েছে। সুতরাং আত্মহত্যার তত্ত্ব খারিজ হয়ে যায়। এরপর মামলার ধারা বদলে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশি জেরায় জ্যোতি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই আর্থিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিন ঝগড়া হত। ঘটনার দিন সেই ঝগড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারপরই এই চরম পদক্ষেপ নেয় জ্যোতি ও তাঁর পরিবার।পুলিশ জানিয়েছে, শ্যালক দীপকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


Exit mobile version