Site icon Hindustan News Point

জল নিয়ে বচসা, তারপর খুন-অগ্নিসংযোগ; উত্তাল দেরাদুন

Dehradun Violence

সেচের জলের প্রবাহ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে শুরু হওয়া বিবাদ মুহূর্তের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হল (Dehradun Violence) উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন জেলার সহসপুর থানা এলাকার বৈরাগিওয়ালা গ্রাম। (Dehradun Violence) ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর জখম হয়েছেন মৃতের দুই ভাই ও এক বৌদি। খুনের ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পাথর ছোড়া, অগ্নিসংযোগ এবং পরে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রবিবারও গ্রামে পরিস্থিতি থমথমে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় কৃষিজমিতে সেচের জল সরবরাহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। (Dehradun Violence) অভিযোগ, পাশের জমিতে জল যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ব্যক্তি লাঠি, হাতুড়ি ও কোদাল নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। জোর করে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের উপর নির্বিচারে মারধর করা হয়।

(Dehradun Violence) এই হামলার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক যুবকের। তিনি BJP যুব মোর্চার OBC শাখার সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও তাঁর দুই ভাই এবং এক বৌদি গুরুতর জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

(Dehradun Violence) ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। নিহত যুবকের পরিবারও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে, দেহ বাড়ি থেকে বার করতে অস্বীকার করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করে। পরে অভিযুক্তদের একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর প্রশাসন গিয়ে অভিযুক্ত আমান আলির বাড়ি ভেঙে দেয়। এই বুলডোজার অভিযানের পর এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবারও বহু মানুষ রাস্তায় নেমে ঘটনার প্রতিবাদ জানায় এবং দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি তোলে।

এদিকে, (Dehradun Violence) নিহতের পরিবারের দাবি, শুধুমাত্র জল নিয়ে বিবাদ নয়, একটি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধও ঘটনার পেছনে থাকতে পারে। নিহতের বাবা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আগের দিন টাকা-পয়সা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তাঁর দাবি, “আজ টাকা দেওয়ার পরই আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।”

তবে পুলিশ এখনও কোনও নির্দিষ্ট কারণকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জল সংক্রান্ত বিবাদ থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেন—সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেরাদুনের SP (ক্রাইম) জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, ঘটনার তদন্তে একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্ত এবং আরও ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(Dehradun Violence) ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের হিংসাত্মক মানসিকতার মানুষদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। অন্যদিকে বিকাশনগরের বিধায়ক মুন্না সিং চৌহান হামলার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তি বজায় রাখার এবং পুলিশের তদন্তের উপর আস্থা রাখার আবেদন জানান তিনি।

জল বিতর্ক থেকে শুরু হয়ে খুন তারপর অগ্নিসংযোগ, এই ঘটনা উত্তরাখণ্ডে নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন – ঔপনিবেশিক ছাপ মুছতে ভারতীয় সেনার নতুন ড্রেস কোড, কী কী পরিবর্তন হলো?


Exit mobile version