দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)-এর সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্ট। সংসদে পেশ করা এই রিপোর্টে বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহল জানিয়েছেন, বিভিন্ন ঘরোয়া বিমান সংস্থার মোট ৭৫৪টি বিমানের উপর চালানো নিরাপত্তা নিরীক্ষায় ৩৭৭টি বিমানে একই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি একাধিকবার ধরা পড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বারংবার ত্রুটির নিরিখে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিমান রয়েছে IndiGo ও Air India-র অধীনে।
IndiGo-র মোট ৪০৫টি বিমানের মধ্যে ১৪৮টি বিমানে একাধিকবার প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা গেছে। অন্যদিকে, Air India-র বহরে থাকা ১৬৬টি বিমানের মধ্যে ১৩৭টি বিমান এই তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও Air India Express-এর ১০১টি বিমানের মধ্যে ৫৪টি বিমানে একই ধরনের ত্রুটি বারবার ধরা পড়েছে। SpiceJet-এর ক্ষেত্রে ৪৩টি বিমানের মধ্যে ১৬টিতে এবং Akasa Air-এর ৩২টি বিমানের মধ্যে ১৪টিতে বারবার সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। Alliance Air-এর অধীনে থাকা সাতটি বিমানে মোট আটটি ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।
DGCA জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সংস্থাটি হাজার হাজার পরিকল্পিত সার্ভেইলেন্স অডিটের পাশাপাশি র্যাম্প ইন্সপেকশন, স্পট চেক এবং নাইট সার্ভেইলেন্স চালিয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিমানগুলির উপরও বিশেষ পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি এড়ানো যায়। Repetitive Defects In Aircrafts
যদিও পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে বিমানে রিপোর্ট হওয়া মোট প্রযুক্তিগত ত্রুটির সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও একই বিমানে বারবার ত্রুটি পাওয়া যাওয়াকে লাল সংকেত হিসেবেই দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২৩ সালে যেখানে ৪৪৮টি প্রযুক্তিগত ত্রুটি রিপোর্ট হয়েছিল, সেখানে ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪২১টিতে এবং ২০২৫ সালে আরও কমে হয় ৩৫৩টি। তবে DGCA-র মতে, ত্রুটির সংখ্যা কমলেও পুনরাবৃত্তি সমস্যাই মূল উদ্বেগের কারণ।
এদিকে আলাদা করে IndiGo সংক্রান্ত তথ্যও সংসদে জানানো হয়েছে। গত তিন মাসে সংস্থাটি প্রায় ৬,৯৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার জেরে ১০ লক্ষের বেশি যাত্রীর ভোগান্তি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে IndiGo-কে তাদের কাজকে স্থিতিশীল করা, যাত্রী পরিষেবা উন্নত করা এবং সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস অনুযায়ী যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ডকে নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে DGCA।
এই রিপোর্ট দ্বারা DGCA স্পষ্ট করেছে, বিমান সংস্থাগুলি যদি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হয় বা উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তবে প্রয়োজনে তাদের বিরূদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ যাত্রী সুরক্ষাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এটি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই অডিট রিপোর্ট। Repetitive Defects In Aircrafts

